খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের (SIB) আমানতকারীরা ২০২৬ অর্থবছর থেকে সর্বোচ্চ ৯.৫% লভ্যাংশ গ্রহণ করবেন। এটি আজ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সদর দফতরে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ. মানসুর ঘোষণা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, লভ্যাংশের হার নির্ধারণ করা হয়েছে বাজার পরিস্থিতি এবং ইসলামী ব্যাংকিং খাতে স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা বজায় রাখার লক্ষ্য অনুযায়ী।
গত কয়েক বছরের আর্থিক কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে গভর্নর মানসুর জানিয়েছেন, আগের ক্ষতির সত্ত্বেও আমানতকারীরা সুবিধা পাবেন। ২০২৪ ও ২০২৫ অর্থবছরের জন্য আমানতকারীরা ৪% লভ্যাংশ পাবেন, যা সরকারের বিশেষ ভর্তুকি থেকে প্রদান করা হবে। ওই সময়ে ব্যাংকের পাঁচটি শাখায় উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। ইসলামী ব্যাংকিং নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতি-সৃষ্ট বছরগুলোতে লভ্যাংশ প্রদান হয় না; তবে সরকারের সহায়তায় আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষিত হয়েছে। এই ভর্তুকি কর্মসূচির আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৪,৫০০ কোটি টাকা।
গভর্নর মানসুর আরও জানিয়েছেন, এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো আমানতকারীদের আস্থা পুনঃস্থাপন করা, ব্যাংকের কার্যক্রমকে বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করা এবং ইসলামী ব্যাংকিং নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করা।
SIB-এর আমানত প্রকল্পের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নে সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| আমানত বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
|---|---|
| সর্বোচ্চ লভ্যাংশ (২০২৬ থেকে) | ৯.৫% |
| ২০২৪–২০২৫ লভ্যাংশ | ৪% (সরকারি বিশেষ ভর্তুকি) |
| মাসিক লভ্যাংশ প্রদান শুরু | ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |
| উত্তোলন সীমা | ২ লাখ টাকার বেশি উত্তোলনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াকরণ সময় প্রযোজ্য |
| গ্রাহক সহায়তা | অভিযোগ সমাধানের জন্য বিশেষ হটলাইন (পরের সপ্তাহে চালু) |
নতুন লভ্যাংশ কাঠামোর অধীনে মাসিক লভ্যাংশ প্রদান কার্যক্রম ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে শুরু হবে। ২ লাখ টাকার বেশি উত্তোলনের ক্ষেত্রে নিয়মনীতি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে।
এছাড়া, আমানতকারীদের আস্থা আরও শক্তিশালী করতে এবং দ্রুত অভিযোগ সমাধানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক পরের সপ্তাহে বিশেষ হটলাইন চালু করবে। গভর্নর মানসুর আমানতকারীদের আহ্বান জানিয়েছেন, এই সেবা ব্যবহার করে ব্যাংকিং লেনদেনে স্বচ্ছতা এবং কার্যকারিতা বাড়াতে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারি ভর্তুকি কর্মসূচি এবং নতুন লভ্যাংশ কাঠামো ইসলামী ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এসব উদ্যোগ আমানতকারীর আস্থা পুনঃস্থাপন, বাজার বাস্তবতার সঙ্গে ব্যাংকের সমন্বয় এবং ইসলামী ব্যাংকিং নীতি অনুসরণে অবদান রাখবে।