খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার না করতে এবং কোনো ধরনের হয়রানি না করার বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশনা স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) সেলিনা হায়াৎ আইভীর আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত বছরের ৯ মে ভোর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত নিজস্ব বাসভবন ‘চুনকা কুটির’ থেকে সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পর থেকে বিভিন্ন সময় তাকে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো (শোন অ্যারেস্ট) হয়েছে।
গ্রেপ্তারের পর আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে হাইকোর্ট তাকে পৃথক পাঁচটি মামলায় জামিন প্রদান করেছিলেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ এই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করলে আপিল বিভাগ জামিন স্থগিত করেন। পরবর্তী সময়ে, গত ১৮ নভেম্বর তাকে আরও পাঁচটি নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারি ওই পাঁচ মামলাতেও আদালত তাকে জামিন দিলেও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তা পুনরায় স্থগিত করা হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে সবশেষে আপিল বিভাগ সাবেক এই মেয়রের মোট ১০টি মামলায় দেওয়া জামিন আদেশ বহাল রাখেন।
১০টি মামলায় জামিন বহাল থাকার পরও ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর এবং ২০২৫ সালের ৩০ জুন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের করা দুটি হত্যা মামলায় সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেপ্তার দেখাতে সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশ আবেদন জানায়। পুলিশি আবেদনের প্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত গত ২ মার্চ একটি মামলায় এবং ১২ এপ্রিল অপর মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।
এই গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। রিটের শুনানি শেষে গত ২৬ এপ্রিল হাইকোর্ট রুল জারি করেন। রুলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পৃথক দুটি মামলায় আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত এবং মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। একই সঙ্গে আদালত সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া আবেদনকারীকে গ্রেপ্তার না করতে এবং হয়রানি না করার জন্য নির্দেশ দেন। বর্তমানে হাইকোর্টের এই নির্দেশনার অংশটুকুর ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।
সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা, গ্রেপ্তার এবং জামিন সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা নিচে টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| তারিখ ও সময় | ঘটনার বিবরণ ও আইনি প্রক্রিয়া |
| ৯ মে (গত বছর), রাত ৩:০০টা | নারায়ণগঞ্জের দেওভোগের ‘চুনকা কুটির’ থেকে সেলিনা হায়াৎ আইভী গ্রেপ্তার হন। |
| প্রথম পর্যায় | পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট কর্তৃক জামিন লাভ; পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে আপিল বিভাগে জামিন স্থগিত। |
| ১৮ নভেম্বর | নতুন করে আরও পাঁচটি মামলায় গ্রেপ্তার প্রদর্শন। |
| ২৬ ফেব্রুয়ারি | পরবর্তী পাঁচ মামলায় আদালত কর্তৃক জামিন মঞ্জুর; পুনরায় রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে স্থগিতাদেশ। |
| পরবর্তী পর্যায় | আপিল বিভাগ চূড়ান্তভাবে পূর্বের মোট ১০টি মামলার জামিন আদেশ বহাল রাখেন। |
| ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ও ৩০ জুন ২০২৫ | সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দুটি পৃথক হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। |
| ২ মার্চ ও ১২ এপ্রিল | চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওই দুই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর। |
| ২৬ এপ্রিল | হাইকোর্ট কর্তৃক রুল জারি এবং সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার ও হয়রানি না করার নির্দেশনা প্রদান। |
| ১৯ মে (আজ) | হাইকোর্টের নির্দেশনার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ কর্তৃক আপিল বিভাগে স্থগিতাদেশের আবেদন নিশ্চিতকরণ। |