চাঁদাবাজির মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক সাইফুল ইসলাম রাব্বিসহ চারজনকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর হাকিম হাসিবুজ্জামান এ আদেশ দেন।
কারাগারে যাওয়া অন্য তিনজন হলেন—আবু সুফিয়ান, আব্দুর রহমান ওরফে মানিক এবং হাবিবুর রহমান ফরহাদ।
প্রসিকিউশনের পক্ষের এসআই মিজানুর রহমান জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার এসআই নাজমুল ইসলাম আসামিদের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করেন এবং তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মোহাম্মদপুরের বছিলা এলাকার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে গত রোববার রাতে সেনাবাহিনী আসামিদের আটক করে। ক্লিনিকের মালিক আফরুজা শিল্পী পরদিন সকালে থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০ সেপ্টেম্বর রাতে শাহিন নামের এক ব্যক্তি সন্তান প্রসব করাতে স্ত্রীকে সেইফ হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেন। নবজাতকের অবস্থা খারাপ হওয়ায় অন্য হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিলেও শাহিন অনুরোধে সেখানে প্রসব করানো হয় এবং মৃত সন্তান জন্ম নেয়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মানবিক কারণে কোনো বিল না নিয়েই ছাড়পত্র দেয়।
অভিযোগে বলা হয়, ২২ সেপ্টেম্বর দুপুরে আসামিরা হাসপাতালে গিয়ে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা না করার শর্তে তিন লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে তারা ভাংচুর চালায় এবং একজনকে তুলে নিয়ে হত্যার হুমকি দেয়। পরে এক লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে বাদী বাকি টাকা দেওয়ার সময় চান। এরপর থেকে আসামিরা ফোন করে বাকি টাকা দাবি করে এবং হুমকি দিতে থাকে।
এজাহারে আরও বলা হয়, গত রোববার রাতে আসামিরা বাদীকে পশ্চিম ধানমন্ডির একটি স্থানে ডেকে নিয়ে এক লাখ টাকা নেয় এবং অবশিষ্ট টাকা দ্রুত না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। বিষয়টি জানানোর পর সেনাবাহিনী গিয়ে তাদের আটক করে।
এর আগে গত মে মাসে মোসে হাক্কানী পাবলিশার্সের মালিকের বাসায় রাতের বেলা ঢোকার চেষ্টা করার অভিযোগে রাব্বিসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতাকে আটক করা হয়েছিল। পরে মুচলেকা নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা আবদুল হান্নান মাসউদের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেয় পুলিশ।
খবরওয়ালা/এন



