খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চালকের অসতর্কতা ও বেপরোয়া গতির কারণে যাত্রীবাহী বাস উল্টে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় নারীসহ আরও অন্তত ছয়জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মাত্র আধা ঘণ্টার ব্যবধানে একই ইউনিয়নে অজ্ঞাত এক দ্রুতগামী যানের ধাক্কায় মো. ইমন (২০) নামের এক তরুণ পথচারী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন। আজ রোববার সকাল সাড়ে সাতটা ও আটটার দিকে উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নে এই পৃথক দুটি দুর্ঘটনা ঘটে।
হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ থেকে জানা যায়, আজ সকাল সাড়ে সাতটার দিকে চট্টগ্রাম থেকে নোয়াখালী অভিমুখী ‘জোনাকী পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস কুমিরা ইউনিয়নের ইলিয়াস পেট্রলপাম্প সংলগ্ন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অতিক্রম করছিল। মহাসড়ক ফাঁকা পেয়ে চালক বাসটিকে অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে চালাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে ব্যর্থ হলে বাসটি মহাসড়কের মাঝখানে থাকা সড়ক বিভাজকের (ডিভাইডার) ওপর আছড়ে পড়ে এবং ঢাকামুখী লেনে উল্টে যায়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মো. সালাউদ্দিন জানান, বিকট একটি শব্দ শুনে তিনিসহ আশেপাশের লোকজন দ্রুত মহাসড়কের লেনে ছুটে যান। তারা দেখতে পান, জোনাকী পরিবহনের বাসটি উল্টে পড়ে আছে এবং বাসের ছাদ ও ইঞ্জিনের ভেতরের অংশে বেশ কয়েকজন যাত্রী মারাত্মকভাবে আটকা পড়েছেন। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন এবং কুমিরা ফায়ার সার্ভিসকে জরুরি ভিত্তিতে খবর দেন।
খবর পেয়ে কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তারা বাসের ভেতর থেকে আটকে পড়া আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী এক যুবককে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত যুবকের নাম ‘প্রকাশ’ বলে জানা গেলেও তার পূর্ণাঙ্গ পরিচয় এখনো মেলেনি।
এই দুর্ঘটনায় আহত অপর ৬ জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে হাসপাতাল ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র। তারা হলেন:
রওশন আক্তার (৩৮)
মহিউদ্দিন (৩৩) — রওশন আক্তারের ছোট ভাই
মোহাম্মদ মান্নান (৩০)
সোনিয়া আক্তার (২৫) — মোহাম্মদ মান্নানের স্ত্রী
অর্পিতা সাহা (২০)
আরিফ মো. ইউসুফ (৫১)
আহতদের মধ্যে অর্পিতা সাহা নামের এক তরুণী গুরুতর আঘাত পেয়ে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর বাবা বাসুদেব সাহা জানান, আজ নোয়াখালীতে তাঁর মেয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ চাকরির পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই সে সকালে জোনাকী পরিবহনের বাসে উঠেছিল। কিন্তু পথিমধ্যেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে তাঁর মেয়ের হাত ও পা মারাত্মকভাবে জখম হয়।
বারআউলিয়া হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিল্টন মণ্ডল জানান, দুর্ঘটনার পর জোনাকী পরিবহনের বাসটি সড়কের ওপর উল্টে থাকায় ঢাকামুখী লেনে সাময়িক যানজটের সৃষ্টি হয়। হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় গাড়িটি সরিয়ে নিলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যুর বিষয়টি তারা নিশ্চিত হয়েছেন।
জোনাকী পরিবহনের এই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সকাল আটটার দিকে একই ইউনিয়নের রয়েল সিমেন্ট গেট এলাকায় আরেকটি প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। মো. ইমন (২০) নামের এক পথচারী যুবক মহাসড়কের ঢাকামুখী লেন দিয়ে চট্টগ্রামের দিকে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় পেছন থেকে আসা একটি অজ্ঞাত দ্রুতগামী গাড়ি তাঁকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। গাড়ির ধাক্কায় ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই ইমনের মৃত্যু হয়।
বারআউলিয়া হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট শামীম আলম দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ নিহত ইমনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। ঘাতক গাড়িটি দুর্ঘটনার পরপরই পালিয়ে যাওয়ায় সেটিকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা সম্ভব হয়নি, তবে গাড়িটি শনাক্ত করার জন্য পুলিশি তৎপরতা ও তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সীতাকুণ্ডের মহাসড়কে চালকদের এই অনিয়ন্ত্রিত গতি ও ট্রাফিক আইন অমান্যের প্রবণতা স্থানীয় জনগণের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।