চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় অবৈধভাবে মজুত করা বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেলের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ২৫ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের সিডিএ আবাসিক গেইট সংলগ্ন এলাকায় একটি গোপন তেল ডিপোতে এ অভিযান পরিচালিত হয়, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত ও বিতরণ করে আসছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানটি শুরু হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মহিনুল ইসলাম, পুলিশ সদস্য, এবং গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) সমন্বিত সহযোগিতায় তিনটি লরি ট্যাংকে সংরক্ষিত অবস্থায় বিপুল পরিমাণ ডিজেল উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এই স্থানকে কেন্দ্র করে অবৈধ জ্বালানি বাণিজ্য পরিচালনা করে আসছিল। এসব তেল শিল্পকারখানা ও পরিবহন খাতে সরবরাহ করা হতো তুলনামূলকভাবে বেশি দামে, যার মাধ্যমে তারা অবৈধভাবে বিপুল অর্থ উপার্জন করছিল। একই সঙ্গে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার পাশাপাশি জ্বালানি খাতে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিনের বেলায় ওই ডিপোর কার্যক্রম প্রায় বন্ধ থাকলেও রাতের অন্ধকারে তেল স্থানান্তর ও লেনদেনের কার্যক্রম চলত। একাধিকবার বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে বিলম্ব হওয়ায় চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল।
অভিযান শেষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অবৈধভাবে মজুত করা ডিজেল রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নিশ্চিত করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম জানান, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে দেশে জ্বালানি সংকট সৃষ্টির কোনো সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ মজুত ও সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
জব্দকৃত জ্বালানির সংক্ষিপ্ত বিবরণ
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| জব্দকৃত তেলের পরিমাণ | ২৫,০০০ লিটার ডিজেল |
| অভিযান এলাকা | সলিমপুর ইউনিয়ন, সীতাকুণ্ড |
| সংরক্ষণ পদ্ধতি | ৩টি লরি ট্যাংক |
| অভিযান পরিচালনার সময় | সোমবার, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা |
| নেতৃত্বে ছিলেন | উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা |
| সংশ্লিষ্ট সংস্থা | প্রশাসন, পুলিশ, গোয়েন্দা বিভাগ, বিপিসি |
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, এ ধরনের অভিযান নিয়মিত হলে জ্বালানি বাজারে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং অবৈধ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কমবে।



