সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে খামারির মৃত্যু ও সতর্কবার্তা

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় হাওরে হাঁস চরাতে গিয়ে বজ্রপাতের কবলে পড়ে সফিক মিয়া (৩২) নামে এক যুবকের প্রাণহানি ঘটেছে। শনিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের সুঁড়িগাঁও গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহতের বাবার নাম বিরাজ মিয়া। তিনি পেশায় একজন হাঁস খামারি ছিলেন।

ঘটনার বিবরণ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সফিক মিয়া প্রতিদিনের মতো শনিবার সকালেও নিজ খামারের হাঁস নিয়ে পার্শ্ববর্তী হাওরে যান। বেলা বাড়ার সাথে সাথে আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটে এবং হঠাৎ ঝড়ের সঙ্গে তীব্র বজ্রপাত শুরু হয়। এসময় হাওরে অবস্থানরত সফিক মিয়া বজ্রাঘাতের শিকার হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন।

দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার এই দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. লুৎফুর রহমান জানিয়েছেন যে, বজ্রপাতে নিহতের খবর তারা পেয়েছেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের প্রক্রিয়াও বিবেচনাধীন রয়েছে।

দুর্যোগ ও আবহাওয়া পরিস্থিতি

সুনামগঞ্জসহ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলো ভৌগোলিক কারণেই বজ্রপাতপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে মে এবং জুন মাসে এই অঞ্চলে বজ্রপাতের প্রকোপ সবথেকে বেশি থাকে। খোলা হাওর বা জলাভূমিতে গাছপালা কম থাকায় সেখানে অবস্থানরত মানুষ বজ্রপাতের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকেন।

নিচে বজ্রপাত সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও সুরক্ষা ব্যবস্থা তুলে ধরা হলো:

বিষয় বিবরণ ও করণীয়
সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময় মার্চ থেকে জুন মাস এবং দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত।
ঝুঁকিপূর্ণ স্থান খোলা মাঠ, হাওর, জলাভূমি, বড় গাছের নিচে এবং বৈদ্যুতিক খুঁটির আশপাশ।
তাৎক্ষণিক সংকেত আকাশে ঘন কালো মেঘ দেখা দিলে বা ঘন ঘন বিজলি চমকালে।
করণীয় দ্রুত পাকা দালানের নিচে আশ্রয় নেওয়া। নৌকায় থাকলে ছাউনির নিচে থাকা।
বর্জনীয় ধাতব বস্তু স্পর্শ করা, খালি পায়ে থাকা এবং মোবাইল ফোন বা ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার।

সরকারি পদক্ষেপ ও সচেতনতা

বজ্রপাতকে বর্তমানে বাংলাদেশে একটি জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বজ্রপাত থেকে রক্ষা পেতে হলে হাওর এলাকায় কাজ করার সময় আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে আকস্মিক মেঘ দেখা দিলে কোনো অবস্থাতেই খোলা মাঠে থাকা নিরাপদ নয়।

নিহত সফিক মিয়ার পরিবারের প্রতি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সমবেদনা জানিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৃত ব্যক্তির দাফন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার জন্য জরুরি আর্থিক অনুদান প্রদানের প্রস্তুতি চলছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, বজ্রপাতে নিহত ব্যক্তির পরিবারকে সাধারণত ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত সহায়তা প্রদান করা হয়ে থাকে।

হাওরবেষ্টিত এলাকাগুলোতে বজ্রপাতের হাত থেকে বাঁচতে পর্যাপ্ত পরিমাণে তালগাছ ও অন্যান্য দীর্ঘাকৃতির গাছ রোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পরিবেশবিদরা, যা প্রাকৃতিক বজ্রনিরোধক হিসেবে কাজ করতে পারে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।