ময়মনসিংহের তারাকান্দায় জোর করে বৃদ্ধের চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় করা মামলায় সুজন মিয়া নামে আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১ অক্টোবর) সকালে ময়মনসিংহ নগরীর জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার সুজন মিয়া (৩০) তারাকান্দা উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের সাধুপাড়া গ্রামের ওহেদ আলীর ছেলে। এর আগে মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মজনু মিয়া নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। দুজনই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
ভুক্তভোগী বৃদ্ধ হালিম উদ্দিন আকন্দ (৭০) তারাকান্দা উপজেলার কোদালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জানান, তিনজন লোক জোর করে তার চুল কেটে দেন। বয়স্ক মানুষটি অনেকক্ষণ চেষ্টা করেও বাধা দিতে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত অসহায় হয়ে বলেন, ‘আল্লাহ, তুই দেহিস’। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়।
প্রায় চার মাস আগে ঘটনার পর শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তারাকান্দা থানায় তার ছেলে মো. শহিদ মিয়া আকন্দ মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে মোট ১২ জনকে আসামি করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হালিম উদ্দিন আকন্দ দীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে মাথায় জট রেখেছিলেন। তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহ পরান (রহ.)-এর ভক্ত। আগে পেশায় কৃষক হলেও বর্তমানে ফকিরি হালে আছেন। কোরবানির ঈদের কয়েক দিন আগে উপজেলার কাশিগঞ্জ বাজারে হঠাৎ একদল লোক এসে তার মাথার জট, দাড়ি ও চুল জোর করে কেটে দেন। ঘটনার সময় বাধা দিতে গেলে তিনি শারীরিক নির্যাতন ও বলপ্রয়োগের শিকার হন। এরপর থেকে তিনি মানসিক ও শারীরিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
‘হিউম্যান সার্ভিস বাংলাদেশ’ নামের একটি সংগঠন ওই চুল কাটার কাজটি করেছিল। সংগঠনের সদস্যরা ঢাকা থেকে ময়মনসিংহে এসে কাজ সম্পন্ন করেন। সংগঠনটির প্রধান, ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার গামারীতলা গ্রামের বাসিন্দা সোহরাব হোসেন আশরাফী, এ ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত।
তারাকান্দা থানার ওসি মোহাম্মদ টিপু সুলতান বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গ্রেপ্তার হওয়া দুজনকে আদালতে সোপর্দ করে তিন দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।
খবরওয়ালা/এন



