খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
ইসরাইলি সেনাবাহিনীতে সাম্প্রতিক সময়ে এক অভূতপূর্ব ভাঙন লক্ষ্য করা গেছে। সামরিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৬০০ কর্মকর্তা এবং নন-কমিশন্ড অফিসার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এই পদত্যাগের প্রধান কারণ ইসরাইলের সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত। সুপ্রিম কোর্ট স্থায়ী সেনাসদস্যদের জন্য বহুকাল ধরে চালু থাকা আর্থিক সুবিধা ‘চিফ অব স্টাফ ইনক্রিজ’ স্থগিত করেছেন। এই সুবিধা সেনাদের মাসিক বেতন ও অন্যান্য আর্থিক সুযোগ-সুবিধার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।
সংবাদমাধ্যম ইসরাইল হায়োম জানিয়েছে, পদত্যাগকারীদের মধ্যে অধিকাংশের বয়স ৪২ বছরের বেশি। তারা মাসশেষের আগেই সেনাবাহিনী ত্যাগ করতে চান, কারণ ওই সময়ে সুবিধা স্থগিত হওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। পাশাপাশি, এই সিদ্ধান্তের কোনো আইনি সুরক্ষা নেই। এর ফলে, তারা মনে করছেন, সময়মতো পদত্যাগ করাই তাদের জন্য নিরাপদ।
২০২৩ সালের জুনে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে একধরনের সমঝোতা হয়েছিল। কিন্তু নেসেটের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কমিটিতে বিষয়টি আটকে আছে, মূলত এমকে আমিত হালেভির আপত্তির কারণে। এই দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অচলাবস্থা সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে ক্ষোভ বাড়িয়েছে। বহুদিন ধরে আর্থিক সুবিধার মাধ্যমে সেনাদের আনুগত্য ও কর্মদক্ষতা ধরে রাখা হত।
বর্তমানে গাজায় চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই পদত্যাগের ঝড় সেনাবাহিনীর জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। কর্মীসংকট সামলাতে সামরিক নেতৃত্ব প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু আদালতের সময়সীমা নিকট আসায় আইওএফ এখন দ্রুত আইনগত সমাধানের জন্য মরিয়া হয়ে লবিং করছে।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি উচ্চস্তরের বৈঠক ডাকতে পারেন। বৈঠকে সেনাবাহিনীর কার্যক্ষমতা, পদত্যাগের প্রভাব এবং আর্থিক সুবিধা পুনর্বহাল করার সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা হবে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদত্যাগের ঝড় সাময়িক হলেও সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও মানসিকতায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।