সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে সমীহ করলেও ফাইনালে চোখ আলভারেজের

ফুটবল বিশ্বকাপের ২০২৬ আসরের হাইভোল্টেজ দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই ইতিহাস, আবেগ আর চিরন্তন বৈরিতার কারণে এই ম্যাচটি ঘিরে ফুটবল বিশ্বে উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে। আগামী বৃহস্পতিবারের এই মহাদ্বৈরথকে সামনে রেখে প্রতিপক্ষকে নিয়ে নিজের মূল্যায়ন জানিয়েছেন আর্জেন্টিনার তারকা ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজ। ইংলিশদের তিনি মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছেন না, বরং হ্যারি কেইনদের শেষ চারে ওঠা তাঁর কাছে বিন্দুমাত্র বিস্ময়কর নয়।

ইংল্যান্ডের শক্তি নিয়ে আলভারেজের অকপট স্বীকারোক্তি

ফিফাকে দেওয়া একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে আলভারেজ আসন্ন ম্যাচটি নিয়ে নিজের খোলামেলা মতামত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ইংল্যান্ড অত্যন্ত গোছানো এবং শক্তিমত্তা সম্পন্ন একটি দল। তাদের স্কোয়াডে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলাররা রয়েছেন। তাই তারা নকআউট পর্বের বাধা টপকে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে, এতে অবাক হওয়ার মতো কিছু নেই। আমরা খুব ভালো করেই জানি, ফাইনালে ওঠার এই লড়াই আমাদের জন্য মোটেও সহজ হবে না।”

প্রতিপক্ষকে যথাযথ সম্মান দিলেও আলভারেজের মূল চোখ এখন বিশ্বকাপের ফাইনালে। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এই ফরোয়ার্ড দলের লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করে আরও বলেন, “আমরা টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার খুব কাছাকাছি দাঁড়িয়ে আছি। বিশ্বমঞ্চে আর্জেন্টিনাকে আবারও সর্বোচ্চ মর্যাদার আসনে বসাতে আমরা মাঠের খেলায় নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দেব।”

অতীত ইতিহাস ও মাঠের বাস্তবতার মেলবন্ধন

আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ফুটবলীয় দ্বৈরথের পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ ও অম্লমধুর ইতিহাস। ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফুটবল ঈশ্বর দিয়েগো ম্যারাডোনার সেই বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং পরবর্তীতে মাঝমাঠ থেকে একক নৈপুণ্যে করা ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’র স্মৃতি আজও ফুটবলপ্রেমীদের মনে তরতাজা। তবে অতীত ইতিহাসের সেই আবেগ আর মাঠের বাইরের উত্তেজনাকে মাঠের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে দিতে চান না আলভারেজ। তিনি বেশ পরিপক্বতার পরিচয় দিয়ে বলেন, “আমরা সবাই খুব ভালো করে জানি যে এই ম্যাচটি আমাদের দেশের মানুষের কাছে কেন এত বিশেষ। সেটা নতুন করে ব্যাখ্যা করার কোনো প্রয়োজন নেই। তবে দিনশেষে সব আবেগ সরিয়ে রাখলে এটি স্রেফ একটি ফুটবল ম্যাচ, যেখানে সেরা দলই জিতবে।”

চড়াই-উতরাই পেরিয়ে দলের আত্মবিশ্বাস

চলমান বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার নকআউট পর্বের পথটি মোটেও মসৃণ ছিল না। প্রতিটি ম্যাচেই তাদের কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে। তবে দলের এই প্রতিকূল পরিস্থিতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতাই আলভারেজকে সবচেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। আলভারেজের ভাষ্যমতে, “এবারের আসরে আমাদের অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে এবং কষ্ট করতে হয়েছে। কিন্তু এই আলবিসেলেস্তে দলটির সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো যেকোনো কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার দুর্দান্ত ক্ষমতা। আমরা ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে জানি।”

সাক্ষাৎকারের শেষ অংশে নিজের মহাতারকা সতীর্থ লিওনেল মেসির সঙ্গে খেলতে পারাকে নিজের জীবনের অন্যতম বড় স্বপ্নপূরণ হিসেবে উল্লেখ করেন আলভারেজ। তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “ছোটবেলা থেকেই আমি মেসির পায়ের জাদু দেখে বড় হয়েছি, তাঁর মতো হওয়ার স্বপ্ন বুনেছি। এখন জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর সঙ্গে একই মাঠে খেলার সুযোগ পাওয়া এবং দেশের হয়ে বড় কিছু অর্জনের লড়াইয়ে তাঁকে সরাসরি সাহায্য করতে পারা আমার জন্য রূপকথার মতো।” এখন দেখার বিষয়, আলভারেজ-মেসি জুটি ইংলিশ বাধা পেরিয়ে বুয়েনস আইরেসকে আবারও উল্লাসের উপলক্ষ এনে দিতে পারেন কি না।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।