খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫:২৮ পিএম
ঢাকার হাজারীবাগে ছয় বছর আগে সংঘটিত সোহেল হাওলাদারের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার স্ত্রী শিল্পী বেগম ও তার ছেলের ঘনিষ্ট বন্ধু ফাহিম পাঠানকে আদালত আজ (১৮ ফেব্রুয়ারি) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। ১০ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম রায় দেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের সহকারী ফারুকুল ইসলাম দেওয়ান জানিয়েছেন, শুধুমাত্র যাবজ্জীবন নয়, প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। যদি এই অর্থদণ্ড পরিশোধ করা না হয়, তাহলে অনাদায়ে আরও এক বছর করে কারাদণ্ড কার্যকর হবে। রায় ঘোষণার সময় ফাহিমকে আদালতে হাজির করা হয়; রায়ের পর তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়। শিল্পী বেগম পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হাজারীবাগের মধ্য বসিলা এলাকা থেকে সোহেলের দুর্গন্ধযুক্ত ও ক্ষতচিহ্নসহ লাশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন হাজারীবাগ থানার এসআই সাইফুল ইসলাম অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন শিল্পী বেগম, তার ছেলে সিজান মাহমুদ ও ফাহিম পাঠান।
শিশু আদালতে চলমান মামলায় সিজান (১৭) শিশু হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আলাদা দোষীপত্র দেওয়া হয়েছে।
শিল্পী বেগম ও সোহেলের সম্পর্ক এবং অর্থ-চাকরির বিরোধ এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সিজানকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সোহেল তার বাবার কাছ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। চাকরি না দেওয়ায় ও অর্থ ফেরত চাওয়ার বিষয় নিয়ে শিল্পী ও সোহেলের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
শিল্পী বেগম ও ফাহিম পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৩ সেপ্টেম্বর সোহেলকে ঘুমের ওষুধ মিশ্রিত শরবত খাইয়ে মাতাল অবস্থায় তাঁকে বেঁধে রেখে ছুরি দিয়ে হত্যা করেন। হত্যার পর শিল্পী বেগম তার বোনের বাসায় চলে যান।
২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল অভিযোগ গঠন হয়। আদালত বিচার চলাকালে মোট ১২ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন। আত্মপক্ষ শুনানি ও যুক্তিতর্ক শেষে আজ রায় ঘোষণা করা হলো।
| দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি | সম্পর্ক | দণ্ডের ধরণ | অর্থদণ্ড | গ্রেপ্তারি অবস্থা |
|---|---|---|---|---|
| শিল্পী বেগম | স্ত্রী | যাবজ্জীবন | ১০,০০০ টাকা | পলাতক, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি |
| ফাহিম পাঠান | ছেলে সিজানের বন্ধু | যাবজ্জীবন | ১০,০০০ টাকা | কারাগারে আটক |
এই রায় বাংলাদেশের মধ্যকার এক উল্লেখযোগ্য দম্পতি-সহ হত্যাকাণ্ডের বিচার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মন্তব্য