ড. মীজানুর রহমান
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
সরকার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খরচ কমাতে এবং বৈষম্য দূর করতে আগামী জুলাই ২০২৬ থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে স্কুলড্রেস, জুতা এবং পাটের তৈরি স্কুল ব্যাগ বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে । প্রথমে পাইলট প্রকল্প হিসেবে সীমিত পরিসরে প্রতি উপজেলায় দুটি করে স্কুলে এই কার্যক্রম চালু করা হবে । দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলো (যেমন বসুন্ধরা গ্রুপ) এই উদ্যোগে সহায়তা করবে । পরীক্ষামূলক এই উদ্যোগ সফল হলে সকল শিক্ষার্থীদেরকে পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে ।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই কার্যক্রম চালু আছে । শ্রীলংকা, ভারত
(মধ্যপ্রদেশ ও আসাম), কেনিয়া, ইকুয়েডর, অস্ট্রেলিয়ায় (অক্ষম পরিবারগুলোর মধ্যে) এই কার্যক্রম বহুদিন থেকে চালু আছে । বিভিন্ন দেশে বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম বিতরণের অভিজ্ঞতা বেশ বৈচিত্র্যময় । কেনিয়ায় এই উদ্যোগ বেশ সফল হয়েছে । অনুপস্থিতির হার ৩৮ শতাংশ থেকে ৪৩ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে । ড্রপ আউট কমেছে । এমনকি এর ফলে ছাত্রীদের মধ্যে বাল্যবিবাহ হ্রাস পেয়েছে। কিশোরী বয়সে মা হওয়ার হার কমেছে । শ্রীলঙ্কায় বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্মের কাপড় বা ভাউচার দেয়া হয় । ৭০ শতাংশ অর্থ চীন সরকার অনুদান হিসেবে যোগান দেয় । ভারতে পিছিয়ে পড়া বা সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে ইউনিফর্ম বিতরণের ফলে স্কুলে ভর্তির হার বেড়েছে । তবে একটি গবেষণায় দেখা গেছে কিছু কিছু ক্ষেত্রে উচ্চ বর্ণের শিক্ষার্থীদের তুলনায় নিম্ন বর্ণের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমতার ভারসাম্য তৈরি করলেও সামাজিক স্তরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে । ধনীরা এই সমতা পছন্দ করেন না । ইকুইয়েডরে এই কর্মসূচি প্রত্যাশিত ফল দিতে ব্যর্থ হয়েছে ; কারন- ঘোষণা দেয়া হলেও প্রায় এক- তৃতীয়াংশ স্কুলে সময়মত পোশাক পৌঁছানো যায়নি । এতে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা হতাশ হয়ে পড়ে এবং স্কুল উপস্থিতির হার উল্টো ২ শতাংশ থেকে পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায় । গবেষকদের মতে যে সকল অভিভাবক নিজের টাকায় স্কুলড্রেস কিনে দেন তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে দায়িত্ববোধ বাড়ে । কিন্তু বিনামূল্যে পাওয়ার পর সেই আগ্রহ কিছুটা কমে যাওয়ার লক্ষণ দেখা গেছে । শিক্ষার প্রবেশ অধিকার ও সমতা নিশ্চিত করা, ঝরে পড়া কমিয়ে আনা, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং নারী শিক্ষার প্রসার ঘটানোর লক্ষ্য নিয়ে আর্জেন্টিনায় ১৯৪৯ সাল থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বই দেয়া হয় । এছাড়াও ভারত, পোল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ায় বিনামূল্যে বই বিতরণ করা হয় । বাংলাদেশের ২০১০ সাল থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে বছরের প্রথম দিন “বই উৎসব” করে বই দেয়া হয় । ২০২৪ সালে বিনামূল্যে ৩৫ কোটি বই বিতরণ করা হয়েছে । যা একটি বিশ্ব রেকর্ড বলে দাবি করা হয় ।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আমলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা, খাতা, কলম দেয়ার একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছিল । মূল লক্ষ্য ছিল দারিদ্র্যের কারণে ঝরে পড়া হার হ্রাস করা । ২০২০ সালে পরিকল্পনা করা হলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে সরাসরি ইউনিফর্ম বিতরণ করা সম্ভব হয়নি । এর পরিবর্তে ২০২১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় প্রতিটি শিক্ষার্থীকে জামা, জুতা ও স্কুলব্যাগ কেনার জন্য এক হাজার টাকা করে “কিডস এলাউন্স” মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে সরাসরি অভিভাবকদের কাছে পাঠানো হয়েছিল । ২০২২-২৩ অর্থবছরে পোশাক ও আনুষাঙ্গিক উপকরণ ভাতা হিসেবে শিক্ষার্থীদেরকে পোশাক, জুতা ও স্কুলব্যাগ কেনার জন্য এককালীন ২০০০ টাকা করে দেয়া হয় । অভিভাবকদের মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্টে উপবৃত্তির সাথে এই টাকা দেয়া হয় । [অভিভাবকের আর্থিক অবস্থা (বার্ষিক আয় তিন লক্ষ টাকার কম), বিদ্যালয়ের উপস্থিতি (কমপক্ষে ৭৫ শতাংশ), এবং পরীক্ষায় অন্তত ৪৫% নম্বর পেলে প্রায় সকল শিক্ষার্থী উপবৃত্তি পেয়ে থাকে । ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও ভূমিহীন পরিবারের সন্তানদের অগ্রাধিকার দেয়া হয় । মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ২০২৪ সালে ৬৪.৭০ লক্ষ শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি ও টিউশন ফি দেওয়া হয়েছে । এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়ক ট্রাস্টের মাধ্যমে ৫৪ লক্ষ শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে । পরিবারের সর্বোচ্চ দুই সন্তান উপবৃত্তি টাকা পেয়ে থাকেন । প্রাক- প্রাথমিক জনপ্রতি ৭৫ টাকা মাসিক, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণীর দেড়শ টাকা , ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী ২০০ টাকা , নবম থেকে দশম শ্রেণী ৩০০ টাকা, এবং একাদশ শ্রেণি ৪০০ টাকা করে উপবৃত্তির টাকা পেয়ে থাকে ।]
কেনিয়ায় পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ড্রেস দিলে মেয়েদের ঝরে পড়ার হার ২.৫% এবং ছেলেদের ঝড়ে পড়ার হার ২% কমে যায় । স্কুলে অনুপস্থিতি ৩৭% থেকে ৪৩ % পর্যন্ত হ্রাস পায় । দারিদ্র্যের কারণে ইউনিফর্ম কিনতে পারেনা অনেকেই । ইউনিফর্ম না থাকার লজ্জাবোধ এবং শিক্ষকের বকুনির ভয়ে স্কুলে অনুপস্থিত থাকে শিক্ষার্থীরা এবং সেটা পরবর্তীতে স্থায়ী ড্রপ আউটে রূপ নেয় । বাংলাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি আনুষ্ঠানিক ড্রেসকোড আছে, সাদা শার্ট এবং নেভি ব্লু প্যান্ট /স্কার্ট । সরকার বিনামূল্যে কোন ড্রেস সরবরাহ না করলেও আজকাল দেশের বেশিরভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয় আনুষ্ঠানিক ড্রেস পরেই শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসে। যা আজ থেকে এমনকি ৩০ / ৪০ বছর আগে চিন্তাও করা যায়নি । শহরাঞ্চলে স্কুলে ড্রেস থাকলেও গ্রামাঞ্চলে এর কোন বালাই ছিল না। আমরা ছোটবেলায় (১৯৬০ ও ৭০ এর দশকে) যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী যার যার মত কাপড় চোপড় পড়েই স্কুলে যেতাম । অনেকের পায়ে স্যান্ডেলও থাকত না, খালি পায়ে স্কুলে আসতো । বর্তমানে বাংলাদেশের বহু জায়গায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শতভাগ স্কুল ড্রেস পড়ে স্কুলে আসে । কুমিল্লা জেলার ২১০৬ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গড় উপস্থিতি ৮৮% থেকে ৯০% , এদের বেশিরভাগই স্কুলড্রেস পরে বিদ্যালয়ে আসে । অপরদিকে কুড়িগ্রামের মত দারিদ্র্যপীড়িত অঞ্চলে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের স্কুলড্রেস কিনে দিতে পারেন না ।
গবেষণা এবং মাঠ পর্যায়ের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে ড্রপ আউট বা ঝরে পড়া রোধে বিনামূল্যে দুপুরের খাবার কর্মসূচি (school feeding program) স্কুলড্রেস ও জুতা প্রদানের চেয়ে বেশি কার্যকর এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে । দুপুরের খাবার দিলে উপস্থিত হার ১৫.৫ % থেকে ১৮% পর্যন্ত বৃদ্ধি পায় । অপরদিকে বিনামূল্যে স্কুলড্রেস প্রদান শিক্ষার আনুষ্ঠানিক ব্যয় কমায়, কিন্তু প্রতিদিন স্কুলে আসার জন্য খাবারের মতো শক্তিশালী অনুপ্রেরণা হিসাবে কাজ করে না । দুপুরে পুষ্টিকর খাবার দিলে শিশুদের মনোযোগ বাড়ে এবং শিখন ফলের উন্নতি ঘটে । স্কুলড্রেস শিক্ষার্থীদের আত্মমর্যাদা বাড়ালেও সরাসরি তাদের জ্ঞানীয় বিকাশে (cognitive development) প্রভাব ফেলে না । অতি দরিদ্র পরিবারের ক্ষেত্রে শিশুদের দুপুরের খাবার দেওয়া পিতা-মাতার নিকট একটি বড় আর্থিক ও মানসিক চাপ । স্কুলে খাবারের নিশ্চয়তা থাকলে অভিভাবকরা শিশুদের কাজে না পাঠিয়ে স্কুলে পাঠাতে বেশি আগ্রহী হয়, শিশুশ্রমের প্রবণতা কমে । ক্ষুধার্ত শিশুরা পড়ায় মনোযোগ দিতে পারে না । বিশ্ব ব্যাংকের মূল্যায়ন হচ্ছে শিশুদের খাবারের জন্য এক ডলার ব্যয় করলে ৯ ডলারের আর্থিক সুবিধা পাওয়া যায় । ইউনিফর্ম বা ব্যাগ বছরে ১ বার ২ বার লাগে, কিন্তু খাবার প্রতিদিনের প্রয়োজন । বাংলাদেশের যেসব এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে স্কুল ফিডিং চালু আছে, সেখানে ঝড়ে পড়ার হার অন্যান্য এলাকার তুলনায় ৭.৫% কমে গিয়েছে । ইউনিফর্ম দিলে ঝড়ে পড়া কমলেও তা মূলত সামাজিক লজ্জাবোধ কমানোর মাধ্যমে কাজ করে, যা খাবারের মতো মৌলিক শারীরিক ও মানসিক চাহিদার সমান নয় ।
চাহিদার দিক থেকে বিবেচনা করলে আমাদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্কুলড্রেস, জুতা ও ব্যাগের চেয়ে দুপুরের খাবারের চাহিদা অনেক বেশি; এর উপযোগও অনেক বেশি । অপরদিকে আমাদের টানাটানির অর্থনৈতিক অবস্থার কথা চিন্তা করলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদের স্কুলড্রেস, জুতা ও ব্যাগ দিতে গেলে যে পরিমাণ অর্থ লাগবে তাতে আমাদের বৈদেশিক সাহায্য (শ্রীলংকার মত) অথবা ঋণের উপর নির্ভর করতে হতে পারে। এর বাইরেও পুরো
ব্যাপারটিতে মাননিয়ন্ত্রণ ও বন্টনজনিত ব্যবস্থাপনার জটিলতা অনেক বেশি হবে, যাতে দুর্নীতির আশঙ্কাও বেড়ে যাবে । যেহেতু অনেকদিন থেকেই স্কুল ফিডিং প্রোগ্রাম পরীক্ষামূলকভাবে চলে আসছে, এক্ষেত্রে নতুন কোন এক্সপেরিমেন্ট প্রয়োজন হবে না । বাস্তব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমরা শিশুদের জন্য অন্তত একবেলা পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা স্থানীয়ভাবেই করতে পারি । অনেক দেশে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্য দিয়েই এ ধরনের প্রোগ্রাম চলছে । এতে স্থানীয় কৃষি (পোল্ট্রি, ডেইরিসহ ) ও কৃষি নির্ভর শিল্পের পৃষ্ঠপোষকতা করাও সম্ভব ।
২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহ গণনা অনুযায়ী দেশের মোট গ্রামের সংখ্যা ৯০,০৪৯ টি । এরমধ্যে ২৮৪৭ টি গ্রামে কোন প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই । APSS পরিসংখ্যান বলছে দেশের মোট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষগুলোর মাত্র ৩৫.৩ % ভালো বা সম্পূর্ণ পাকা অবস্থায় আছে । সারাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৭,৪১৪ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (২৬.৫৬ %) জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে, যার মধ্যে অনেকগুলোই আধাপাকা বা পুরাতন ভবন । এছাড়া প্রায় ৬৭০৪ টি বিদ্যালয় ভবনকে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে অত্যন্ত জরাজীর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করেছে, এর মধ্যে ১১% অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্যে রয়েছে । (২০২৪ এর পূর্ববর্তী কয়েক বছরে ২০২৩ টি নতুন ভবন উদ্বোধন করা হয়েছে, ২৬১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ভবন নির্মাণের আরেকটি প্রকল্প চলমান বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে চলমান ছিল ।) বাংলাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগের ব্যবস্থা করার আগে যে সমস্যাটি সবচেয়ে বেশি নজরে দেয়া দরকার তা হচ্ছে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগ এবং বর্তমান শিক্ষকদের উচ্চতর প্রশিক্ষণ । ২০২৬ এর এপ্রিলের সংবাদ অনুযায়ী ৬৫,৪৫৭ টি প্রধান শিক্ষকের পদের মধ্যে ৩৪,১৫৯ টি পদ বর্তমানে শূন্য । সহকারী শিক্ষকের ৩,৫৫,৬৫৩টি পদের মধ্যে ২৪,৫৩৬ টি শুন্য । বর্তমানে শুন্য পদ পূরণের যে প্রক্রিয়া চলছে তা দ্রুত সম্পন্ন করা প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত । দ্বিতীয় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত জরাজীর্ণ স্কুল ভবন মেরামত এবং প্রত্যেক গ্রামে একটি স্কুল নির্মাণ (পাকা ঘর , প্রয়োজনীয় জনবল,আসবাবপত্র ও সরঞ্জামসহ ) , তৃতীয়ত ধাপে স্কুলগুলোতে একবেলা পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করা এবং সবশেষে আসবে স্কুলড্রেস, জুতা ও ব্যাগ ।
লেখক: ড. মীজানুর রহমান, অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়