খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আভিজাত্য, সঞ্চয় কিংবা উৎসব—বাঙালির জীবনে স্বর্ণের গুরুত্ব অপরিসীম। যুগ যুগ ধরে নিরাপদ বিনিয়োগ এবং সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে এই মূল্যবান ধাতুটির চাহিদা চিরকালই আকাশচুম্বী। তবে বর্তমান বাজারে স্বর্ণ কেনার সময় সাধারণ ক্রেতারা প্রায়শই ক্যারেট, খাদ, হলমার্ক এবং ওজনের হিসাব নিয়ে দ্বিধায় ভোগেন। সঠিক তথ্য না জানার কারণে অনেক সময় প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকিও থাকে। তাই বিনিয়োগ বা অলঙ্কার কেনার আগে স্বর্ণের মানদণ্ড সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকা জরুরি।
স্বর্ণের বিশুদ্ধতা পরিমাপের আন্তর্জাতিক একক হলো ‘ক্যারেট’। খনি থেকে উত্তোলিত স্বর্ণ অত্যন্ত নরম থাকে, যা দিয়ে গহনা তৈরি করা অসম্ভব। তাই একে মজবুত করতে তামা, রূপা বা দস্তার মতো অন্য ধাতু মেশানো হয়, যাকে প্রচলিত ভাষায় ‘খাদ’ বলা হয়। স্বর্ণে খাদের পরিমাণ যত বাড়বে, ক্যারেটের মান তত কমবে।
২৪ ক্যারেট: এটি ৯৯.৯ শতাংশ খাঁটি স্বর্ণ। এটি অত্যন্ত নরম হওয়ায় গহনা তৈরিতে ব্যবহৃত হয় না; মূলত স্বর্ণের বার বা কয়েন হিসেবে বিনিয়োগের জন্য এটি আদর্শ।
২২ ক্যারেট: গহনা তৈরির জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো ২২ ক্যারেট। এতে ৯১.৬৭ শতাংশ স্বর্ণ এবং বাকি অংশ অন্য ধাতু থাকে। এটি টেকসই এবং উজ্জ্বল।
২১ ক্যারেট: এতে ৮৭.৫ শতাংশ স্বর্ণ থাকে। নিত্যদিনের ব্যবহারের আংটি বা চেইন তৈরিতে এটি বেশি ব্যবহৃত হয়।
১৮ ক্যারেট: ৭৫ শতাংশ স্বর্ণ এবং ২৫ শতাংশ অন্য ধাতুর মিশ্রণ। হীরা বা দামি পাথরখচিত গহনার বেস হিসেবে এটি সবচেয়ে উপযুক্ত কারণ এটি অত্যন্ত শক্ত হয়।
স্বর্ণের অলঙ্কার খাঁটি কি না তা বোঝার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হলো ‘হলমার্ক’। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, গহনার ভেতরের অংশে সূক্ষ্মভাবে ক্যারেট অনুযায়ী কিছু সংখ্যা খোদাই করা থাকে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বর্তমানে হলমার্কিং ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও ডিজিটাল করার লক্ষ্যে কাজ করছে।
ক্যারেট অনুযায়ী হলমার্ক চেনার সংকেত:
| স্বর্ণের মান (ক্যারেট) | স্বর্ণের বিশুদ্ধতা (%) | আন্তর্জাতিক হলমার্ক কোড | ব্যবহারের ক্ষেত্র |
| ২৪ ক্যারেট | ৯৯.৯% | ৯৯৯ | বিনিয়োগ, কয়েন, গোল্ড বার |
| ২২ ক্যারেট | ৯১.৬৭% | ৯১৬ | ঐতিহ্যবাহী ভারী গহনা |
| ২১ ক্যারেট | ৮৭.৫% | ৮৭৫ | চেইন, আংটি, ছোট গহনা |
| ১৮ ক্যারেট | ৭৫.০% | ৭৫০ | ডায়মন্ড ও পাথর সেট করা গহনা |
বাংলাদেশে ঐতিহাসিকভাবে স্বর্ণের ওজন ভরি, আনা ও রতি এককে মাপা হয়। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে এবং বাজুসের দাম নির্ধারণে ‘গ্রাম’ এককটিই মূল ভিত্তি। ক্রেতাদের সুবিধার্থে নিচে একটি রূপান্তর চিত্র দেওয়া হলো:
১ ভরি = ১১.৬৬৪ গ্রাম
১ ভরি = ১৬ আনা
১ আনা = ৬ রতি
স্বর্ণ কেনার সময় বর্তমানে ‘কেডিএম’ সোনা এড়িয়ে চলা উচিত। এক সময় ক্যাডমিয়াম (KDM) নামক ধাতু খাদ হিসেবে ব্যবহার করা হতো, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বর্তমানে এর পরিবর্তে ‘জিংক’ বা উন্নত মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। বাজুস সভাপতি এনামুল হক খান দোলন জানান, গ্রাহক যেন প্রতারিত না হন সেজন্য তারা কিউআর কোড ভিত্তিক অনলাইন ট্র্যাকিং পদ্ধতি চালু করছেন। এর মাধ্যমে মোবাইল অ্যাপ দিয়েই গহনার আসল মান ও দোকানের পরিচয় নিশ্চিত করা যাবে।
পরিশেষে, স্বর্ণ কেনার সময় অবশ্যই অনুমোদিত ডিলারের কাছ থেকে হলমার্ক দেখে কিনুন এবং বিক্রয় রসিদ সংগ্রহ করুন। সঠিক জ্ঞানই পারে আপনার কষ্টার্জিত অর্থের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করতে।