খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ই জুলাই ২০২৬, ৭:৪২ এএম
বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম প্রধান কবি আহসান হাবীব জন্মগ্রহণ করেন ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে। শৈশব থেকেই তিনি বেড়ে ওঠেন সাহিত্য ও সংস্কৃতির আবহে। সেই পরিবেশই তাঁর কিশোর মনকে শব্দের জগতে আকৃষ্ট করে এবং অল্প বয়সেই লেখালেখির পথে তাঁর যাত্রা শুরু হয়।
পিরোজপুর গভর্নমেন্ট স্কুল থেকে ১৯৩৫ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি বরিশালের বিএম কলেজে ভর্তি হন। কিন্তু দারিদ্র্য তাঁর শিক্ষাজীবনের পথ রুদ্ধ করে দেয়। দেড় বছর পর, ১৯৩৬ সালের শেষার্ধে জীবিকার সন্ধানে তাঁকে পাড়ি জমাতে হয় কলকাতায়।
কলকাতার দিনগুলো ছিল নির্মম সংগ্রামের। কখনো অনাহারে ফুটপাতে রাত কেটেছে, কখনো ক্ষুধার তাড়নায় রেস্তোরাঁয় ঢুকে বিল পরিশোধ করতে না পেরে গলার মাফলার জমা রাখার প্রস্তাব দিতে হয়েছে। জীবনের কঠিনতম পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েও তিনি ভেঙে পড়েননি; বরং প্রতিকূলতাকেই রূপ দিয়েছেন সৃষ্টিশীল শক্তিতে।
অবশেষে ১৯৩৭ সালে মাত্র ১৭ টাকা মাসিক বেতনে ‘দৈনিক তকবির’-এ সহসম্পাদক হিসেবে যোগদানের মধ্য দিয়ে তাঁর কর্মজীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটে। পরবর্তীকালে তিনি ‘বুলবুল’, ‘মাসিক সওগাত’ এবং কলকাতা কেন্দ্রের ‘আকাশবাণী’-তে স্টাফ আর্টিস্ট হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
স্বাধীনতার পর ‘দৈনিক বাংলা’ পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। শুধু সম্পাদক নন, তিনি হয়ে উঠেছিলেন স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের সাহিত্যাঙ্গনের একজন প্রজ্ঞাবান অভিভাবক। অসংখ্য নবীন লেখক তাঁর স্নেহ, দিকনির্দেশনা ও উৎসাহে সাহিত্যের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা পেয়েছেন।
কবিতা, উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ, নিবন্ধ, শিশুতোষ ছড়া ও কবিতাসহ নানা ধারায় তাঁর সৃষ্টিশীলতার স্বাক্ষর ছড়িয়ে আছে। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা প্রায় পঁচিশ। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি লাভ করেন একুশে পদক এবং দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান স্বাধীনতা পুরস্কার।
তাঁর সাহিত্যিক উত্তরাধিকারও সমান গৌরবময়। পুত্র মঈনুল আহসান সাবের একজন বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক ও প্রকাশক, আর কন্যা কেয়া চৌধুরী সুপরিচিত অভিনেত্রী ও উপস্থাপিকা।
১৯৮৫ সালের ১০ জুলাই বাংলা সাহিত্যের এই প্রবাদপ্রতিম কবি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন। কিন্তু তাঁর কবিতা, তাঁর ভাষা, তাঁর মানবিক বোধ এবং তাঁর স্বপ্ন আজও বাংলা সাহিত্যকে আলোকিত করে চলেছে।
শ্রদ্ধাঞ্জলি, কবি আহসান হাবীব।
আপনার কবিতার মেঘনা আজও বাংলার হৃদয়ে অবিরাম বয়ে চলে।
মন্তব্য