খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
রবিউল হুসাইন ছিলেন একাধারে একজন বিশিষ্ট স্থপতি ও সংবেদনশীল কবি—যাঁর সৃষ্টিতে শিল্প, ইতিহাস ও মানবিক চেতনা একসূত্রে মিলেছে। ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ২০১৮ সালে একুশে পদক প্রদান করে। এর আগে ২০০৯ সালে কবিতায় অবদানের জন্য তিনি লাভ করেন বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার।
কবি পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি ছিলেন শিল্পসমালোচক, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক ও সক্রিয় সংস্কৃতিকর্মী। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ ও উপস্থাপনায় তাঁর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য—যেখানে একজন স্থপতির দায়িত্ববোধ আর একজন কবির অনুভব মিলেমিশে গেছে।
রবিউল হুসাইনের জন্ম ১৯৪৩ সালের ৩১ জানুয়ারি, ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার রতিডাঙ্গা গ্রামে। কুষ্টিয়া জেলায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বর্তমান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়—বুয়েট)-এ ভর্তি হন এবং ১৯৬৮ সালে স্থপত্য বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পা রাখার আগেই শুরু হয় তাঁর পেশাগত জীবন। একই সঙ্গে ছাত্রজীবন থেকেই তিনি নিয়মিত সাহিত্যচর্চায় যুক্ত ছিলেন। কর্মজীবনে তিনি বাংলা একাডেমির আজীবন সদস্য হিসেবে যুক্ত থাকার পাশাপাশি শিশু-কিশোর সংগঠন কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা, জাতীয় কবিতা পরিষদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর, ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ক্রিটিক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট-এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর নকশায় নির্মিত উল্লেখযোগ্য স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে—
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা পরিষদ ভবন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তি ও স্বাধীনতা তোরণ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ফটক, ভাসানী হল, বঙ্গবন্ধু হল, শেখ হাসিনা হল, খালেদা জিয়া হল, ওয়াজেদ মিয়া সায়েন্স কমপ্লেক্স এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম ও একাডেমিক ভবন কমপ্লেক্স। এসব স্থাপনায় ইতিহাস, নান্দনিকতা ও ব্যবহারিক বোধের অপূর্ব সমন্বয় লক্ষ করা যায়।
সাহিত্যাঙ্গনে কবিতা, উপন্যাস, শিশুতোষ রচনা ও প্রবন্ধ মিলিয়ে তাঁর ২৫টিরও বেশি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে—যা বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে ভিন্নমাত্রিক চিন্তা ও ভাষায়।
২০১৯ সালের ২৬ নভেম্বর এই গুণী মানুষটি আমাদের ছেড়ে চলে যান।
স্থাপত্যে ও সাহিত্যে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
শ্রদ্ধাঞ্জলি।