খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
লক্ষ্মীপুর, শুক্রবার – কুমিল্লার ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ নিহত মাদ্রাসাশিক্ষক মুফতি আব্দুল মমিন ও তার পরিবারের সদস্যদের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার বাদ জুমআ লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নের তিতারকান্দি গ্রামে শ্বশুরবাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাদের পাশাপাশি কবরে শায়িত করা হয়। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয় বশাহাজী পাটওয়ারী বাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে। জানাজায় ইমামতি করেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়সাল আহমাদ, যিনি নিহত মুফতি মমিনের শ্যালক। জানাজায় স্থানীয় মুসল্লি, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ঢল নামে। আবেগঘন পরিবেশে একসঙ্গে চারজনের জানাজা সম্পন্ন হয়।
পরবর্তীতে একই কবরস্থানে পাশাপাশি চারটি কবর খুঁড়ে তাদের দাফন করা হয়। স্বজনদের আহাজারি ও কান্নায় পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে। উপস্থিত অনেকেই এই দৃশ্যকে “অসহনীয় ও মর্মান্তিক” বলে বর্ণনা করেন।
নিহত মুফতি আব্দুল মমিন নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন। তার সঙ্গে নিহত হয়েছেন—
এছাড়া দুর্ঘটনায় প্রাইভেটকার চালক জামাল হোসেন (৫২)-ও নিহত হন, যার বাড়ি বরিশালে।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, চাকরির কারণে মমিন বেশিরভাগ সময় ঢাকায় থাকতেন। নিজ গ্রামে পর্যাপ্ত জমি না থাকায় ঈদের ছুটিতে পরিবারসহ শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করতেন। ভবিষ্যতে নিজ এলাকায় জমি কিনে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা ছিল তার।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কালাকচুয়া এলাকায় একটি বাস ও প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয় এবং গুরুতর আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পথে বাকিরা মারা যান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, অতিরিক্ত গতি ও নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
| বিষয় | তথ্য/বিস্তারিত |
|---|---|
| নিহত ব্যক্তি | মুফতি আব্দুল মমিন ও তার স্ত্রী ও দুই সন্তান |
| দাফনের স্থান | তিতারকান্দি গ্রাম, চরশাহী ইউনিয়ন, লক্ষ্মীপুর সদর |
| জানাজার স্থান | বশাহাজী পাটওয়ারী বাড়ি জামে মসজিদ |
| জানাজা পরিচালনা | মাওলানা ফয়সাল আহমাদ |
| দুর্ঘটনার স্থান | কালাকচুয়া এলাকা, কুমিল্লা (ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক) |
| দুর্ঘটনার ধরন | বাস ও প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষ |
| অতিরিক্ত নিহত | চালক জামাল হোসেন (৫২) |
| সম্ভাব্য কারণ | অতিরিক্ত গতি বা নিয়ন্ত্রণ হারানো (তদন্তাধীন) |
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একসঙ্গে একটি পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যু শুধু স্বজনদের নয়, পুরো সমাজকেই নাড়া দিয়েছে। বিশেষ করে একই কবরস্থানে পাশাপাশি চারটি কবর খোঁড়ার দৃশ্য উপস্থিত মানুষকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।
মাওলানা ফয়সাল আহমাদ বলেন, “একটি সড়ক দুর্ঘটনায় আমার বোন, ভগ্নিপতি ও তাদের দুই সন্তানকে হারিয়েছি। এ শোক ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা দেশের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। মহাসড়কে অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া চালনা ও যানবাহনের ত্রুটি—এসব কারণ প্রতিনিয়ত প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
মুফতি আব্দুল মমিন ও তার পরিবারের করুণ মৃত্যু দেশের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। একই পরিবারের চার সদস্যের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং একটি বড় সামাজিক ট্র্যাজেডি।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে সড়ক নিরাপত্তা জোরদার এবং এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।