খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় এক হজযাত্রীর হারিয়ে যাওয়া ব্যাগকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে এক ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ফলে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আজ শনিবার দুপুর পর্যন্ত ঘটনাস্থলে সংঘাত ও উত্তেজনা চলছিল। কসবা থানা পুলিশ সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য তাদের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর কসবা উপজেলার শাহপুর গ্রামের এক বৃদ্ধা পবিত্র হজব্রত পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যান। সেখানে অবস্থানকালীন কোনো এক সময়ে তিনি তাঁর একটি লাগেজ (ভ্রমণের ব্যাগ) হারিয়ে ফেলেন। হজ পালন শেষে দেশে ফিরে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শাহপুর গ্রামের ওই নারী হজযাত্রী তাঁর হারিয়ে যাওয়া লাগেজের খোঁজে কসবা পৌর এলাকায় অবস্থিত ‘কসবা হজ কাফেলা’ নামক একটি এজেন্সিতে যান। এই হজ্জ কাফেলাটি পরিচালনা করেন আড়াইবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন।
উক্ত এজেন্সিতে যাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ওই হজযাত্রীকে জানান যে, সৌদি আরবে বা ভ্রমণের সময় হারিয়ে যাওয়া লাগেজের সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট হজযাত্রীর নিজের। এই বিষয়ে হজ্জ কাফেলা বা এজেন্সির প্রাতিষ্ঠানিক পক্ষ থেকে কোনো কিছু করার সুযোগ নেই। এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ওই দিনই (বৃহস্পতিবার) দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা, হাতাহাতি এবং এক পর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবারের ওই প্রাথমিক বিরোধের জের ধরে আজ শনিবার দুপুরে উভয় গ্রামের বাসিন্দারা পুনরায় উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে শাহপুর গ্রাম এবং আড়াইবাড়ি গ্রামের বিপুল সংখ্যক মানুষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কসবা পৌর এলাকা এবং এর আশেপাশের বিভিন্ন স্থানে সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের তীব্রতার কারণে কসবা পৌর এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সংঘাতের ঘটনায় দুই পক্ষের কমপক্ষে ১৫ জন আহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতির সার্বিক তথ্য ও ঘটনাপ্রবাহ নিচে টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ ও তথ্য |
| ঘটনার স্থান | কসবা পৌর এলাকা ও আশেপাশের অঞ্চল, কসবা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া |
| বিরোধের মূল কারণ | সৌদি আরবে হজযাত্রীর হারিয়ে যাওয়া লাগেজ উদ্ধার ও এর মালিকানা দাবি |
| জড়িত পক্ষসমূহ | শাহপুর গ্রামের বাসিন্দা (হজযাত্রীর পক্ষ) বনাম আড়াইবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা (হজ কাফেলার পরিচালকের পক্ষ) |
| প্রাথমিক ঘটনা | গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কসবা হজ কাফেলা কার্যালয়ে হাতাহাতি ও মারামারি |
| চূড়ান্ত সংঘর্ষ | আজ শনিবার দুপুর থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ উভয় পক্ষের মুখোমুখি সংঘাত |
| হতাহতের সংখ্যা | উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত |
| প্রশাসনের ভূমিকা | কসবা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছে |
কসবা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজনিন সুলতানা কসবা এলাকায় দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হজযাত্রীর লাগেজ হারিয়ে যাওয়া সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আজ শনিবার পুনরায় দুই পক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। কসবা থানা পুলিশের একটি দল দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছে এবং দাঙ্গাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য আইনানুগ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের প্রক্রিয়া চলছে এবং পরবর্তী সহিংসতা এড়াতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।