খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫
পার্থ টেস্টের প্রথম দিন যেন ছিল পেসারদের উৎসব। অ্যাশেজ ইতিহাসে বহু নাটকীয় দিন দেখা গেলেও আজকের দিনের তীব্র উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা ক্রিকেটপ্রেমীদের শ্বাস আটকে দেওয়ার মতো ছিল। দিনের খেলা শেষে ইংল্যান্ড কিছুটা এগিয়ে থাকলেও দুই দলের যৌথ ধসেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে বলার মতো সব মুহূর্ত।
টসে জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নামে ইংল্যান্ড। কিন্তু প্রথম বল থেকেই অস্ট্রেলিয়ার পেসার মিচেল স্টার্ক ভয়ংকর হয়ে উঠলেন। জ্যাক ক্রলিকে শূন্য রানে ফিরিয়ে সফরকারীদের ওপর চাপ তৈরি করেন তিনি। সেই চাপ আর কাটাতে পারেনি ইংলিশ টপ-অর্ডার। একের পর এক ব্যাটার স্টার্কের গতির সামনে নড়বড়ে হয়ে পড়েন। শেষ পর্যন্ত স্টার্ক ক্যারিয়ারসেরা বোলিং প্রদর্শন করে মাত্র ৫৮ রানে ঝুলিতে ভরেন ৭ উইকেট।
ইংল্যান্ডের ইনিংসে ওলি পোপ লড়াই করলেও দলের রক্ষা করতে পারেননি। তাঁর ৪৬ রানের ইনিংস ছাড়া কোনো ব্যাটারই তেমন প্রতিরোধ গড়তে পারেননি। মাত্র ৩২.৫ ওভারেই ১৭২ রানে গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ড।
জবাবে অস্ট্রেলিয়ার শুরুটাও ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। অভিষিক্ত জ্যাক ওয়েদারাল্ডকে প্রথম ওভারেই জফরা আর্চার বিদায় করলে দুই দলেরই প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে প্রথম উইকেট হারানোর বিরল রেকর্ড তৈরি হয়—অ্যাশেজ ইতিহাসে যা প্রথমবার।
অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং বিপর্যয় আরও ভয়ংকর রূপ নেয় যখন আক্রমণে আসেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক বেন স্টোকস। দারুণ গতি ও নিখুঁত সুইংয়ে তিনি মাত্র ২৩ রানে নেন ৫ উইকেট। স্টোকসের আগুনে বোলিংয়ে ৩৯ ওভারে ১২৩ রানে থেমে যায় অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ, হাতে তখনো একটি উইকেট বাকি। প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডের তুলনায় ৪৯ রানে পিছিয়ে থেকে দিন শেষ করে স্বাগতিকরা।
দিন শেষে ক্রিকেটপ্রেমীদের আলোচনায় একটাই বিষয়—অ্যাশেজের প্রথম দিনে শেষবার ১৯ উইকেট পড়েছিল ১৯০৯ সালে। তার পর এতটা নাটকীয়তা একদিনে আর দেখা যায়নি।
দিন যতই অস্বাভাবিক হোক, টেস্টের অবস্থান ততটাই রোমাঞ্চকর। দ্বিতীয় দিনে ম্যাচ কোনদিকে মোড় নেয়—তা জানতেই অপেক্ষা সমর্থকদের।