খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
চলমান যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক উত্তেজনার মধ্যে, বিশ্ববাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে ইরান। দেশের সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিকে বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে তিনি সতর্ক করেছেন, যে কোনো জাহাজের মালিক নিজ দায়িত্বে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কিত জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করলে তা লক্ষ্যবস্তু হবে।
ইরানের নাম প্রকাশ না করা মুখপাত্র বলেন, “হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে ইচ্ছুক যে কোনো জাহাজকে বাধা দেওয়া হবে না। তবে এটির নিরাপত্তার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট জাহাজের উপর থাকবে। জায়নবাদী সত্ত্বা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কিত যে কোনো জাহাজ নিশানা হতে পারে।” এই ঘোষণার মাধ্যমে ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, যে বিশ্ববাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি খোলা থাকবে, তবে রাজনৈতিক ও সামরিক জোটের সঙ্গে সম্পর্কিত জাহাজের জন্য তা নিরাপদ নয়।
হরমুজ প্রণালি পারস্য সাগর এবং ওমান সাগরের মধ্য দিয়ে পৃথিবীর জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এটি বিশ্বের মোট জ্বালানির এক-ষষ্ঠাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের এক-তৃতীয়াংশ পরিবহনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। নৌপথটি দৈর্ঘ্যে ৩৯ কিলোমিটার (২৪ মাইল)।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং ইরানের পাল্টা জবাবের কারণে হরমুজ প্রণালির কার্যক্রম প্রায় থমকে গেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এই পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পাঁচ ভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে জাহাজ চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ভোরটেক্সার হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে ২৪টি জাহাজ চলাচল করত। কিন্তু সংঘাত শুরু হওয়ার পর ১ মার্চের পর এ সংখ্যা মাত্র ৪-এ নেমে এসেছে। বর্তমানে প্রায় ৩০০টি তেলবাহী ট্যাংকার নৌপথে আটকা পড়ে আছে।
| জাহাজের ধরন | অনুমোদিত | নিষিদ্ধ/লক্ষ্যবস্তু | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| ইরান ও মিত্র দেশ সম্পর্কিত | হ্যাঁ | না | নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে |
| যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কিত | না | হ্যাঁ | নিশানা হতে পারে |
| ইসরায়েল সম্পর্কিত | না | হ্যাঁ | নিশানা হতে পারে |
| চীন সম্পর্কিত | আংশিক উল্লেখ | না বলা | নতুন ঘোষণায় স্পষ্ট নয় |
| ইউরোপীয় দেশ ও মিত্র | না | আংশিক | পূর্বের নির্দেশনা প্রযোজ্য |
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালির কার্যক্রম বন্ধ বা সীমিত হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে। ইরানের নতুন ঘোষণা কিছুটা স্থিতিশীলতা এনে দিচ্ছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, যে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার পরিকল্পনা নেই, কিন্তু রাজনৈতিক শত্রুর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত যে কোনো নৌযান হুমকির মুখোমুখি হতে পারে। এটি মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
এভাবে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি বিশ্ববাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।