খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫
গত শুক্রবার ঢাকায় সন্ত্রাসীর গুলিতে গুরুতর আহত হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদি। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে দ্রুত এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। এই ঘটনার পর পরই সামনে এসেছে আরও বিস্ফোরক ও উদ্বেগজনক তথ্য—হাদিসহ কয়েকজন শীর্ষ জুলাই সংগঠক নাকি আগে থেকেই ‘টার্গেট কিলিং’-এর তালিকায় ছিলেন।
বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, হাদির ওপর হামলার ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। বরং এর আগে থেকেই সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলকে সতর্ক করা হয়েছিল যে, শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন জুলাই যোদ্ধার ওপর পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা চালানো হতে পারে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, আগাম এই স্পর্শকাতর তথ্য জানানো হলেও কার্যকর কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, সম্ভাব্য টার্গেট কিলিংয়ের তালিকায় হাদির পাশাপাশি রয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ এবং আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। এছাড়া আরও কয়েকজন সক্রিয় জুলাই সংগঠকের নামও উঠে এসেছে, যাদের ওপর হামলার সুনির্দিষ্ট আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
সূত্র অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী একজন আইনজীবীর মাধ্যমে এই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রথম সামনে আসে। তিনি পেশাগত সূত্রে বিশ্বের কয়েকটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকায় এসব সংবেদনশীল তথ্য তার হাতে আসে বলে জানান। তিনি দ্রুত বিষয়টি সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা ও উচ্চপর্যায়ের দায়িত্বশীলদের অবহিত করেন। শুধু তাই নয়, ওসমান হাদিসহ তিনজন জুলাই যোদ্ধাও ব্যক্তিগতভাবে সরকারের সংশ্লিষ্টদের কাছে নিজেদের নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা তুলে ধরেন।
ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এ প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সূত্রে হামলার আশঙ্কার তথ্য পেয়ে সরকারকে জানিয়েছিলাম। কিন্তু দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাড়িয়ে এই সমস্যার সমাধান হয় না। বর্তমান বাস্তবতায় পুলিশি নিরাপত্তা নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে রাজনীতি করাও প্রায় অসম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের আগে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। লোক দেখানো অভিযানে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।”
এদিকে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ওই আইনজীবী সেপ্টেম্বরে ঢাকায় এসে হাদি, হাসনাত আবদুল্লাহ ও ব্যারিস্টার ফুয়াদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন এবং করণীয় নির্ধারণে বিস্তারিত আলোচনা করেন। সরকারের পক্ষ থেকে বডিগার্ড নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ের রাজনীতি ও কর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়ার আশঙ্কায় তারা সে প্রস্তাবে সম্মত হননি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হাদির ওপর হামলায় বিদেশে অবস্থানরত সন্ত্রাসীদের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। এই ঘটনায় ফিলিপ ওরফে গারো ফিলিপ নামের এক ভাড়াটে কিলারের নাম উঠে এসেছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পুলিশ বলছে, ফিলিপকে আটক করা গেলে পুরো কিলিং মিশনের নেপথ্যের হোতাদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে সরকারের বক্তব্য জানতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও আইজিপির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে আইজিপি খুদেবার্তায় জানিয়েছেন, এ ধরনের আগাম তথ্য তাদের কাছে ছিল না।