দেশে হামের উপসর্গে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা আবারও বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে নতুন কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দিনে আরও ১২৮ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে ৯০১ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এসব রোগীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখার কার্যক্রম চলছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই সংক্রমণ পরিস্থিতিতে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৭৫০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ৮৯৯ জনে। প্রতিদিনই নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি, হাঁচি বা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ভাইরাসটি অন্যের শরীরে ছড়িয়ে দিতে পারেন। রোগটির সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং পরে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া। অপুষ্টিতে ভোগা শিশু, দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি এবং টিকার আওতার বাইরে থাকা শিশুদের ক্ষেত্রে জটিলতার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নির্ধারিত সময়ে টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করা। পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। এতে সংক্রমণ বিস্তার এবং জটিলতা—দুই-ই কমানো সম্ভব।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশজুড়ে রোগ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং নতুন আক্রান্তদের তথ্য প্রতিদিন হালনাগাদ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি বজায় রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে আক্রান্ত রোগীরা দ্রুত চিকিৎসাসেবা পেতে পারেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে পরিবার, স্থানীয় প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচিতে শতভাগ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।



