খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
নাটোরে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ব্যানারে একদল নেতা-কর্মীর ঝটিকা মিছিল ও সংক্ষিপ্ত পথসভার ঘটনা ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাতটার দিকে সদর উপজেলার ঢালান বাজারসংলগ্ন নাটোর–রাজশাহী মহাসড়কে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ঘটনার ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, সকাল সাতটার কিছু সময় পর ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল ছাত্রলীগের ব্যানার এবং জাতীয় পতাকা হাতে মহাসড়কে মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি ছিল স্বল্প সময়ের। প্রায় পাঁচ মিনিট সড়কে অবস্থান করার পর তারা নিকটবর্তী একটি মোড়ে সংক্ষিপ্ত পথসভা করেন। সেখানে একটি ভ্যানের ওপর দাঁড়িয়ে একজনকে বক্তব্য দিতে দেখা যায়। একই সময়ে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসকে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের আশপাশে চলাচল করতে দেখা যায়, যা ভিডিওতেও দৃশ্যমান বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
পথসভা থেকে বক্তারা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। মিছিল ও সমাবেশে দেওয়া বিভিন্ন স্লোগান এবং বক্তব্যের ভিডিও অল্প সময়ের মধ্যেই ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ঘটনাটি স্থানীয় পর্যায়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
ঘটনার বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা এমরান হোসেন বলেন, মিছিল করা বাক্স্বাধীনতার অংশ এবং সেই অধিকার প্রয়োগ করেই তাঁরা কর্মসূচি পালন করেছেন। তাঁর দাবি, মিছিল শেষ হওয়ার পর ওই এলাকার কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর এবং কয়েকজনকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত তথ্য বা নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।
এদিকে নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান জানিয়েছেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এ ধরনের কোনো মিছিলের বিষয়ে পুলিশের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য ছিল না। তবে বিষয়টি সামনে আসার পর পুলিশ প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নিচ্ছে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থী বা নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের তৎপরতার প্রমাণ পাওয়া গেলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, ভোরবেলায় অল্প সময়ের জন্য কর্মসূচি পালন করায় ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ছিল না। ফলে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত মিছিল ও পথসভা শেষ করে এলাকা ত্যাগ করেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি প্রশাসনের নজরে আসে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এখন বিভিন্ন ঘটনার প্রাথমিক তথ্যসূত্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে এমন ভিডিওর ভিত্তিতে কোনো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত এবং প্রত্যক্ষ তথ্য যাচাই করা জরুরি। এ ধরনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জননিরাপত্তা এবং প্রচলিত আইনের প্রয়োগ—সবকিছুই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
নাটোরের এ ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির ওপর নজরদারি অব্যাহত রাখার কথা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয় বা আইন লঙ্ঘনের কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।