হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত ওয়ার্ডে মোট ২০টি শয্যা রয়েছে। তবে রোগীর সংখ্যা নিয়মিতভাবে এই সক্ষমতা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবার ওই ওয়ার্ডে ২৭ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। এর আগে গত মাসে একপর্যায়ে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৪৫ জনে পৌঁছেছিল। বর্তমানে রোগীর সংখ্যা কিছুটা কমলেও প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি থাকছেন।
নির্ধারিত শয্যার তুলনায় রোগী বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত রোগীদের মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। এতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ রোগীদের সঙ্গে ডেঙ্গু রোগীদের অবস্থান করায় সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) আহসান কবীর পরিস্থিতির ঝুঁকির কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা অনুযায়ী ডেঙ্গু রোগীদের মশারি সরবরাহ করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত শয্যার বাইরে মেঝেতে থাকা অতিরিক্ত রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত মশারির ব্যবস্থা নেই। আবার যেসব রোগী মশারি পাচ্ছেন, তাঁদের অনেকে সেটি ব্যবহার করছেন না।
আহসান কবীর বলেন, রোগীদের মশারি ব্যবহার করতে বলা হলেও অনেকেই তা মানছেন না। ফলে মশার কামড় থেকে ডেঙ্গু রোগীদের সুরক্ষিত রাখা এবং হাসপাতালের অন্য রোগীদের ঝুঁকিমুক্ত রাখার ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, আড়াইশ শয্যার এই হাসপাতালে করোনারি কেয়ার ইউনিটের শয্যাসহ প্রকৃত শয্যাসংখ্যা ২৭৪টি। অথচ প্রতিদিন এখানে আটশর বেশি রোগী ভর্তি থাকেন। মঙ্গলবার হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ৮২২। অর্থাৎ, অনুমোদিত ও প্রকৃত শয্যাসংখ্যার তুলনায় রোগীর চাপ অনেক বেশি।
অতিরিক্ত রোগীর চাপে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে রোগীদের অবস্থান করতে হচ্ছে। শয্যা পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় অনেকে মেঝে, সিঁড়ি ও র্যাম্পে থাকছেন। এমন পরিস্থিতিতে রোগীদের আলাদা ওয়ার্ডে রাখা, পর্যাপ্ত জায়গা নিশ্চিত করা এবং সংক্রমণ প্রতিরোধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা কার্যকর করা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিকে কোনো এডিস মশা কামড়ানোর পর সেই মশা অন্য কাউকে কামড়ালে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ কারণে ডেঙ্গু রোগীদের মশারির ভেতরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে হাসপাতালের মতো জনবহুল স্থানে রোগীদের সুরক্ষায় মশারি ব্যবহার, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা জরুরি।
হাসপাতালে ভর্তি অন্য রোগীদের মধ্যে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত মানুষও থাকতে পারেন। তাঁদের ক্ষেত্রে নতুন করে কোনো সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হওয়া উদ্বেগজনক। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত মশারি ও পৃথক চিকিৎসাব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
তবে যশোর জেনারেল হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, শুধু রোগীদের সচেতন করার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজনের তুলনায় কম শয্যা, অতিরিক্ত রোগীর চাপ এবং পর্যাপ্ত জায়গার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ডেঙ্গু রোগীদের নিরাপদে রাখার পাশাপাশি অন্য রোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা মোকাবিলা এবং সংক্রমণ প্রতিরোধের ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।


