রাজধানীর জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের উপপরিচালক ডাক্তার আহমেদ হোসেন (৫০) দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন। গুরুতর অবস্থায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার পর পথেই তিনি হামলার শিকার হন। হামলার পরপরই স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি ও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তায় রাত পৌনে ৯টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মোস্তাক আহমেদ জানান, আহত চিকিৎসকের শরীরের একাধিক স্থানে আঘাত রয়েছে। তিনি বলেন, “তার হাতে, বাঁ বাহুতে এবং পিঠে ছুরিকাঘাতের জখম রয়েছে। তাকে ভর্তি করা হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত অবস্থায় রয়েছেন।”
হামলার বর্ণনা দিতে গিয়ে আহত ডাক্তার আহমেদ হোসেন জানান, তিনি হাঁটছিলেন এমন সময় হঠাৎ দুইজন অজ্ঞাত যুবক তাকে পথরোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। হামলার কারণ সম্পর্কে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কিছু বলতে পারেননি।
তবে ঘটনার পেছনে পূর্ব বিরোধ বা হুমকির বিষয় থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আহতের সঙ্গে থাকা এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু, নাম প্রকাশ না করার শর্তে, জানান যে সরকারি ইজিপি (ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট) টেন্ডার সংক্রান্ত একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে তাকে দীর্ঘদিন ধরে চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
তিনি বলেন, “প্রায় ১৪ থেকে ১৫ দিন আগে রুবেল নামের একজন ব্যক্তি তাকে টেন্ডার সংক্রান্ত বিষয়ে হুমকি দিয়েছিল। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিতও করেছিলেন। কিন্তু এরপরও পরিস্থিতির কোনো সমাধান হয়নি।”
সূত্র আরও জানায়, ডাক্তার আহমেদ হোসেন মাত্র দুই মাস আগে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউটে উপপরিচালক হিসেবে যোগদান করেন। ফলে দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই এ ধরনের হামলার ঘটনা নিয়ে হাসপাতাল ও চিকিৎসক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
আহত চিকিৎসকের বর্তমান অবস্থা
| বিষয় |
তথ্য |
| নাম |
ডাক্তার আহমেদ হোসেন |
| বয়স |
৫০ বছর |
| পদবি |
উপপরিচালক, জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতাল |
| আহত হওয়ার স্থান |
রাজধানী (হাঁটার সময় হামলা) |
| আঘাতের ধরন |
হাতে, বাহুতে ও পিঠে ছুরিকাঘাত |
| বর্তমান চিকিৎসা |
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল |
| অবস্থা |
আশঙ্কামুক্ত |
ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে। হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের কাজ চলছে।
চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টরা এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, চিকিৎসা পেশাজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। তারা মনে করছেন, হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
এদিকে, রাজধানীতে প্রকাশ্যে একজন সরকারি চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট না হলেও, এটি একটি পরিকল্পিত হামলা হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।