খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 29শে চৈত্র ১৪৩১ | ১২ই এপ্রিল ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ৬০টি দেশের সব ধরনের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ হারে বেসলাইন শুল্ক আরোপ করেছেন। একইসঙ্গে পাল্টা শুল্কও ঘোষণা করেন তিনি, যদিও তা আপাতত ৯০ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক এখনো বহাল রয়েছে, যা সব দেশের সব পণ্যের ওপর প্রযোজ্য।
তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কিছু ব্যতিক্রমের আভাসও দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বাণিজ্য অংশীদার এই শুল্ক থেকে অব্যাহতি পেতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, যেসব দেশ বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী, তাদের জন্য ১০ শতাংশ শুল্কই ন্যূনতম সীমা হিসেবে ধরা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় ১১ এপ্রিল, শুক্রবার সন্ধ্যায় ফ্লোরিডার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার সময় এয়ার ফোর্স ওয়ানে থাকা সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় ট্রাম্প এসব কথা বলেন।
পাল্টা শুল্ক আরোপ ও আলোচনার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “কিছু সুস্পষ্ট কারণে কয়েকটি ব্যতিক্রম থাকতে পারে। তবে আমি বলব, ১০ শতাংশই আমাদের সর্বনিম্ন সীমা।” তবে সেই ‘সুস্পষ্ট কারণগুলো’ সম্পর্কে তিনি কিছু জানাননি।
ট্রাম্পের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল, যখন শেয়ার ও বন্ডের বাজার অস্থির এক সপ্তাহ পার করেছে। বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন দেশের সরকার এই আক্রমণাত্মক বাণিজ্যনীতিকে কেন্দ্র করে আরও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প যখন ব্যাপক হারে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন, তখন পুঁজিবাজারে ধস নামে। বিশ্বজুড়ে বাজারে অস্থিরতা বাড়লে এবং অর্থনীতিকে সংকটের মুখে ঠেলে দেওয়ার আশঙ্কা বেড়ে গেলে ট্রাম্প ৯০ দিনের জন্য ওই শুল্ক স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন।
তবে চীনের পণ্যের ওপর তিনি সর্বোচ্চ ১৪৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছেন। জবাবে চীনও মার্কিন পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। যদিও চীন জানিয়েছে, তারা আর পাল্টা শুল্ক আরোপে যাবে না, তবে অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণে ‘শেষ পর্যন্ত লড়াই’ করার প্রস্তুতি রয়েছে তাদের।
এদিকে, ট্রাম্পের শুল্ক স্থগিত ঘোষণার পর মার্কিন শেয়ারবাজার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক বেড়েছে ১ দশমিক ৮ শতাংশ। ১০ বছর মেয়াদি বন্ডের মুনাফাও বেড়ে দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার স্থিতিশীল করতে পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
তবে এই বাজার অস্থিরতাকে ট্রাম্প বিশেষ গুরুত্ব দেননি। তাঁর ভাষায়, “আমার মনে হয় আজ বাজারগুলো স্থিতিশীল ছিল। মানুষ বুঝতে পারছে আমরা ভালো অবস্থানে আছি।” তিনি আরও বলেন, “মার্কিন ডলার সব সময়ই পছন্দের মুদ্রা থাকবে। যদি কোনো দেশ বলে তারা ডলারে থাকবে না, আমি বলতে পারি, একটি ফোনকলেই তারা আবার ডলারে ফিরে আসবে।”
চলতি সপ্তাহে বন্ড মার্কেটে কিছুটা ওঠানামা দেখা গেলেও ট্রাম্প বলেন, “বন্ড মার্কেট ভালো চলছে। সামান্য সমস্যা হয়েছিল, তবে আমি খুব দ্রুত তা সমাধান করেছি।”
ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চীনের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ফলে গড় মার্কিন শুল্ক হার ঐতিহাসিক উচ্চতায় পৌঁছাবে। এতে করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে ৬৯০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হুমকির মুখে পড়বে।
শুক্রবার বেইজিং ঘোষণা দিয়েছে, তারা সমস্ত মার্কিন পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। হোয়াইট হাউসের পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানায় চীন।
চীনের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয় ইতিবাচক কিছু ঘটবে।” তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংকে একজন “ভালো ও বুদ্ধিমান নেতা” বলেও প্রশংসা করেন।
খবরওয়ালা/এমবি