খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৫ আগস্ট ২০২৫
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আজ, ৫ আগস্ট, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের এক বছর পূর্তিতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। এছাড়া বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় তিনি জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করবেন বলে জানা গেছে। ওই ভাষণেই তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ঘোষণা করতে পারেন, এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে একাধিক সূত্র থেকে।
সরকারঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, ৫ আগস্ট অথবা ৮ আগস্ট-এই দুই দিনের একটিতে তিনি নির্বাচন প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখবেন। তবে ৫ আগস্টকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সূত্রের ভাষ্য, প্রধান উপদেষ্টা ‘আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন’ অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দিতে পারেন। ভোটের নির্দিষ্ট তারিখ ও তফসিল নির্বাচন কমিশন পরবর্তী সময়ে ঘোষণা করবে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাসুদ গতকাল বলেন, যদি ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হয়, তবে সেটি রমজানের আগেই, অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ভোটগ্রহণের সম্ভাব্য সময় হতে পারে ১২ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার বা তার আগের কোনো দিন। কমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, ২০২৬ সালের রমজান শুরু হতে পারে ১৮ ফেব্রুয়ারি, তাই রোজার আগে নির্বাচন আয়োজনে কমিশনের প্রস্তুতি চলছে।
তফসিল ঘোষণার সময় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ অনুযায়ী, সাধারণত ভোটগ্রহণের ৫০ থেকে ৬০ দিন আগে নির্বাচন তফসিল ঘোষণা করা হয়। সে হিসাবে, এবারের তফসিল ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শেষ সপ্তাহের মধ্যে আসতে পারে।
কমিশনের ইতিহাস বিশ্লেষণে দেখা যায়— ৯ম সংসদ: তফসিল ঘোষণা হয়েছিল ভোটের ৫৬ দিন আগে, ১০ম সংসদ (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা): ৪৫ দিন আগে, ১১তম সংসদ: ৫১ দিন আগে, ১২তম সংসদ: ৫২ দিন আগে,, ৫ম সংসদ (১৯৯০): ৭৩ দিন আগে।
গত ৬ জুন জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেছিলেন, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের মধ্যে যেকোনো দিন ভোট হতে পারে। কিন্তু বিএনপি ও তার মিত্ররা এতে আপত্তি জানায়। এরপর ১৩ জুন লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, রমজানের আগের সপ্তাহেও নির্বাচন আয়োজন করা যেতে পারে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন ইতিমধ্যে জানিয়েছেন, “নির্বাচনের জন্য ফুল গিয়ারে প্রস্তুতি চলছে।” সেনাবাহিনী প্রধানও গত বছর সেপ্টেম্বরেই বলেছিলেন, ১৮ মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে আগামী ফেব্রুয়ারি পড়ে।
২৬ জুলাই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন, নির্বাচনের নির্দিষ্ট সময় খুব শিগগিরই জানানো হবে। জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার জানান, ‘প্রধান উপদেষ্টা চার-পাঁচ দিনের মধ্যেই সময় ঘোষণা করবেন’।
সব মিলিয়ে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে সবচেয়ে জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে।
খবরওয়ালা/এমএজেড