খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ (AI) কি খুব শীঘ্রই মানুষের চিন্তাশক্তি ও মেধার সীমা অতিক্রম করে যাবে? বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এবং টেসলা ও স্পেস-এক্স-এর কর্ণধার ইলন মাস্কের সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে এমনই এক রোমাঞ্চকর ও কিছুটা উদ্বেগজনক চিত্র ফুটে উঠেছে। তাঁর মতে, আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যেই এআই মানুষের চেয়েও বেশি বুদ্ধিমান হয়ে উঠবে, যা মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ গতিপথ আমূল বদলে দিতে পারে। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (WEF) মঞ্চে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি, ২০২৬) এক বিশেষ সেশনে তিনি এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন।
ইলন মাস্কের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিবর্তন বর্তমানে এমন এক পর্যায়ে রয়েছে যেখানে এর সক্ষমতা প্রতি মাসেই দ্বিগুণ হচ্ছে। দাভোস সম্মেলনে তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে জানান যে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ একটি একক এআই সিস্টেম যেকোনো মেধাবী মানুষের চেয়েও বেশি বুদ্ধিমান ও কার্যকর হয়ে উঠবে। কেবল তাই নয়, তিনি আরও যোগ করেন যে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এআই-এর সম্মিলিত ক্ষমতা পৃথিবীর সকল মানুষের সামগ্রিক বুদ্ধিমত্তাকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইলন মাস্কের এআই ও রোবটিকস সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ পূর্বাভাসসমূহ:
| বিষয়ের বিবরণ | সময়কাল ও সম্ভাব্য প্রভাব |
| একক মানুষের চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব | ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ অর্জন সম্ভব। |
| সম্মিলিত মানব বুদ্ধিমত্তা জয় | আগামী ৫ বছরের মধ্যে (২০৩১ নাগাদ)। |
| হিউম্যানয়েড রোবট বিক্রয় | ২০২৭ সালের শুরু থেকে সাধারণের জন্য উন্মুক্ত। |
| রোবট ও মানুষের অনুপাত | ভবিষ্যতে মানুষের সংখ্যার চেয়েও বেশি হবে রোবটের সংখ্যা। |
| প্রাথমিক ব্যবহারের ক্ষেত্র | প্রবীণদের সেবা, শিশু লালন-পালন ও গৃহস্থালি কাজ। |
ইলন মাস্কের আলোচনায় কেবল এআই সফটওয়্যার নয়, বরং এর হার্ডওয়্যার রূপ তথা ‘হিউম্যানয়েড রোবট’ বা মানুষের মতো দেখতে রোবটের বিষয়টিও প্রাধান্য পেয়েছে। তিনি ঘোষণা করেছেন যে, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে আগামী বছরের শেষ নাগাদ সাধারণ মানুষের জন্য বাণিজ্যিকভাবে রোবট বিক্রি শুরু হবে। মাস্কের দৃষ্টিভঙ্গিতে, এই রোবটগুলো হবে একেবারেই নিরাপদ এবং ব্যক্তিগত সহকারীর মতো।
তিনি উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “যদি একটি রোবট সম্পূর্ণ নিরাপদ হয়, তবে কে না চাইবে এমন একজন সহকারী—যে আপনার সন্তানদের দেখভাল করবে, পোষা প্রাণীর যত্ন নেবে এবং বয়স্ক বাবা-মায়ের খেয়াল রাখবে?” তাঁর মতে, ভবিষ্যতে প্রতিটি ঘরে অন্তত একটি করে রোবট থাকবে এবং এই রোবট শিল্প হবে বর্তমানের গাড়ি শিল্পের চেয়েও কয়েক গুণ বড়।
এবারের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে মাস্কের উপস্থিতি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। কারণ দীর্ঘ সময় ধরে তিনি এই সংস্থাকে ‘জবাবদিহিহীন এলিটদের ক্লাব’ এবং ‘সাধারণ মানুষের বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন’ বলে সমালোচনা করে আসছিলেন। তবে ২০২৬ সালের এই বৈশ্বিক সংকটে এবং প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচনে তাঁর এই অংশগ্রহণ ইঙ্গিত দেয় যে, প্রযুক্তি বিশ্বের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এখন আর কেবল ল্যাবরেটরিতে সীমাবদ্ধ নেই, তা বিশ্ব রাজনীতির প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মাস্ক এআই-এর সুবিধা নিয়ে আশাবাদী হলেও এর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করেছেন। তিনি মনে করেন, এআই-এর অতি-বুদ্ধিমত্তা যদি সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রিত না হয়, তবে তা মানবজাতির জন্য অস্তিত্বের সংকট তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে কর্মসংস্থান হারানো এবং এআই-এর নিজস্ব চেতনা তৈরির মতো বিষয়গুলো নিয়ে নীতিনির্ধারকদের এখনই ভাবা উচিত বলে তিনি মনে করেন।
ইলন মাস্কের এই ভবিষ্যৎবাণী আমাদের এক নতুন যুগের সংকেত দিচ্ছে। ২০২৬ সাল খুব বেশি দূরে নয়। যদি তাঁর দাবি সত্য হয়, তবে আমরা এমন এক পৃথিবীর মুখোমুখি হতে যাচ্ছি যেখানে মানুষ ও যন্ত্রের পার্থক্য কেবল জৈবিক কাঠামোতেই সীমাবদ্ধ থাকবে। মেধা ও কর্মদক্ষতায় যন্ত্র হয়তো আমাদের গুরু হয়ে দাঁড়াবে। এখন দেখার বিষয়, মানবজাতি এই অসীম ক্ষমতার এআই-কে সঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করতে কতটা প্রস্তুত।