খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
গত এক দশকে জ্বালানি দক্ষতা বাড়াতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের সুফল পাচ্ছে বাংলাদেশ। নতুন গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে দেশ নির্ধারিত সময়ের আগে ২০৩০ সালের জ্বালানি দক্ষতার লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হবে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি দক্ষতা বাড়ায় সরাসরি ডলারে সাশ্রয় হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিনান্সিয়াল অ্যানালাইসিস (আইইইএফএ) প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ এনার্জি ইফিসিয়েন্সি গোলস উইদিন রিচ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ সাল থেকে জ্বালানি দক্ষতার উন্নতির ফলে বাংলাদেশ জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি ব্যয়ে শতকোটি ডলার সাশ্রয় করেছে।
আইইইএফএ বাংলাদেশের বিষয়ক প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম প্রতিবেদনের লেখক। তিনি জানান, ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে ২০২৩-২৪ পর্যন্ত জ্বালানি দক্ষতা ১৩.৬৪ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে ২০৩০ সালের লক্ষ্য ২০ শতাংশ। শুধু ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই উন্নতির কারণে ৭০ লাখ টন তেলের সমান জীবাশ্ম জ্বালানি কম ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে প্রায় ৩৩৪ কোটি মার্কিন ডলার আমদানি ব্যয় এড়ানো গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বার্ষিক গড় জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধির হার ১.৫২ শতাংশ, যা চালু থাকলে ২০৩০ সালের লক্ষ্য এক বছর আগে অর্জিত হতে পারে। দেশের মোট জ্বালানির দুই-তৃতীয়াংশ ব্যবহৃত হয় গৃহস্থালি ও শিল্প খাতে, যা লক্ষ্য করে আরও বেশি সাশ্রয় সম্ভব। উদাহরণ হিসেবে এলইডি বাল্ব, দক্ষ এয়ারকন্ডিশনার ব্যবহার এবং শিল্পে মোটরচালিত সিস্টেম ও ক্যাপটিভ জেনারেটরে দক্ষতা বৃদ্ধির প্রয়াস উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে:
দেশব্যাপী নিয়মিত জ্বালানি দক্ষতা সচেতনতা বৃদ্ধি।
বড় জ্বালানি ভোক্তাদের জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ।
জ্বালানি দক্ষতা প্রকল্পের জন্য সহজলভ্য অর্থায়ন নিশ্চিত করা, প্রয়োজন হলে বহুজাতিক উন্নয়ন ব্যাংক-সমর্থিত অর্থায়ন ব্যবস্থার সুযোগ সৃষ্টি।
বাণিজ্যিক খাতে লেবেলিং ও প্যাসিভ ডিজাইন উন্নয়ন।
আইইইএফএ নিয়মিত জ্বালানি বাজার, প্রবণতা ও নীতিসংশ্লিষ্ট বিষয় বিশ্লেষণ করে। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য হলো বৈচিত্র্যময়, টেকসই ও লাভজনক জ্বালানি অর্থনীতি ত্বরান্বিত করা।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি (২০১৪-২০২৪) | ১৩.৬৪% |
| ২০৩০ সালের লক্ষ্য | ২০% |
| ২০২৩-২৪ সালে সাশ্রয় | ৭০ লাখ টন তেল সমতুল্য |
| সাশ্রয়িত অর্থ | প্রায় ৩৩৪ কোটি মার্কিন ডলার |
| বার্ষিক গড় বৃদ্ধির হার | ১.৫২% |
| লক্ষ্য খাত | গৃহস্থালি, বাণিজ্যিক ও শিল্প খাত |