খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূমিকম্প পরবর্তী পরিস্থিতি ও শীতকালীন ছুটিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নতুন সময়সূচি ঘোষণা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী ২৮ ডিসেম্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব আবাসিক হল খুলে দেওয়া হবে এবং একই দিন থেকে নিয়মিত ক্লাসও শুরু হবে। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান সভাপতিত্ব করেন।
সভায় প্রথমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি। এর আগে বুয়েটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি সাব-কমিটি গঠন করা হয়, যারা প্রতিটি হল পরিদর্শন করে কারিগরি মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। সেই প্রতিবেদনে কিছু হলে তাৎক্ষণিক সংস্কারের সুপারিশ এবং কয়েকটিতে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
ডিনস কমিটি এসব সুপারিশ বিস্তারিত পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়—হলগুলো খুলে দেওয়া হলেও সংস্কার কার্যক্রমের অংশ বিশেষ চলমান থাকবে, তবে সেগুলো যাতে আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি না করে, তা নিশ্চিত করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা কামনা করেছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পূর্বঘোষিত শীতকালীন ছুটি বহাল থাকছে। বিশ্ববিদ্যালয় অতিরিক্তভাবে ২৩ ও ২৪ ডিসেম্বর ছুটি হিসেবে যুক্ত করেছে। এর ফলে আবাসিক হল ২৮ ডিসেম্বর খোলার আগে সময় পাওয়া যাবে সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করা ও ক্যাম্পাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য।
বিশ্ববিদ্যালয় জানায়, শীতকালীন ছুটিতে কোনো ধরনের পরীক্ষা নেওয়া হবে না। তবে শিক্ষণ কার্যক্রমের ঘাটতি পুষিয়ে নিতে চলমান অনলাইন ক্লাস ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত চালু থাকবে। এ সিদ্ধান্তকে অনেকেই শিক্ষার্থীবান্ধব হিসেবে দেখছেন, কারণ দীর্ঘ ছুটির কারণে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে সম্ভাব্য চাপ কমাতে এটি সহায়ক হবে।
ডিনস কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা শুরু হবে। প্রতিটি বিভাগ সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিন ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে পুনর্নির্ধারিত সময়সূচি প্রকাশ করবে।
এই সিদ্ধান্তগুলো শুধু সময়সূচি ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য নিরাপত্তা, একাডেমিক সময়সূচি, প্রশাসনিক সমন্বয় ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ—সবকিছুর সমন্বিত প্রতিফলন। ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি, সংস্কার কাজ ও শিক্ষার্থী নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেই বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি বজায় রেখে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুষ্ঠু সময়সূচি তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও একাডেমিক পরিকল্পনা—সব মিলিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আগামী ২৮ ডিসেম্বর থেকে ধীরে ধীরে আবারও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশে ফিরতে চলেছে।