খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
তীব্র আর্থিক সংকট ও ঋণের ভারে জর্জরিত হয়ে পড়েছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দল সৌদি আরবের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আল-নাসর। ৮০ কোটি সৌদি রিয়াল, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার সমান—এমন বিপুল ঋণের বোঝায় দিশেহারা ক্লাবটি। আসন্ন মৌসুম শুরুর আর এক মাসও বাকি নেই, অথচ চলতি গ্রীষ্মকালীন দলবদল উইন্ডোতে দল গুছানোর ক্ষেত্রে ক্লাবের অভ্যন্তরীণ সংকট এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
নতুন মৌসুমের প্রস্তুতি যখন তুঙ্গে থাকার কথা, তখন আল-নাসর এখনও পর্যন্ত কোনো নতুন খেলোয়াড়ের চুক্তি চূড়ান্ত করতে পারেনি। স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মায়োর্কার পর্তুগিজ মিডফিল্ডার সামু কস্তাকে সই করানোর ব্যাপারে অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা হলেও ব্যাংকে পর্যাপ্ত তহবিল না থাকায় তা আটকে আছে। এমনকি দলের নিয়মিত মুখ আবদুর রহমান গারিবের চুক্তি নবায়নের মতো জরুরি বিষয়টিও ঝুলে রয়েছে।
সৌদি আরবের জনপ্রিয় সংবাদপত্রে এই সংকটের মূল কারণ প্রকাশ করে জানিয়েছে, গত মৌসুমে নেওয়া বেশ কিছু হটকারী ও অপরিকল্পিত আর্থিক সিদ্ধান্তের কারণেই আজকের এই বেহাল দশা। ক্লাবের বর্তমান ঋণের পরিমাণ আশি কোটি রিয়ালের সীমানা ছাড়িয়ে গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আল-নাসরের মালিকানা প্রতিষ্ঠান সৌদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ) বিশেষ তিনটি কৌশল হাতে নিয়েছে। তাদের মূল লক্ষ্য ক্লাবের আর্থিক স্থায়িত্ব ফেরানো, বিশ্বজুড়ে গড়ে ওঠা সমর্থকগোষ্ঠীর আস্থা বজায় রাখা এবং বিপণন মূল্য অক্ষুণ্ন রাখা। সেই সাথে ঋণের পরিমাণ যেন কোনোভাবে দ্বিগুণ না হতে পারে, সেদিকেও কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে বর্তমান নির্বাহী ব্যবস্থাপনার আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এক প্রকার সীমিত করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে নিজস্ব আয় থেকে তহবিল জোগাড় করতে না পারলে এই দলবদল উইন্ডোতে আল-নাসর নতুন কোনো ফুটবলারকে দলে নিতে পারবে না।
দ্বিতীয় কৌশলে ক্লাব পরিচালনায় পেশাদারিত্ব আনতে বিশ্বমানের আর্থিক, বাণিজ্যিক ও আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই স্বাধীন সংস্থাগুলো ক্লাবের বাণিজ্যিক আয় বাড়ানোর পথ বের করবে, অনাবশ্যক খরচ কমাবে এবং একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সংকট উত্তরণের উপায় বাতলে দেবে।
তৃতীয় ও সবচেয়ে আলোচিত বিষয়টি হলো ক্লাব বিক্রির প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করা। পিআইএফ-এর কাছে ইতোমধ্যে দুটি আকর্ষণীয় প্রস্তাব এসেছে। তবে শতভাগ মালিকানা না ছেড়ে আংশিক শেয়ার হস্তান্তরের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
সমর্থকরা অবশ্য দ্রুত কোনো বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে ক্লাবের আংশিক মালিকানা বিক্রির দাবি জানাচ্ছেন। তারা প্রতিবেশী ও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব আল-হিলালের মডেল অনুসরণের তাগিদ দিচ্ছেন। গত এপ্রিলে প্রিন্স আল-ওয়ালিদ বিন তালালের মালিকানাধীন কিংডম হোল্ডিং কোম্পানি আল-হিলালকে কিনে নেওয়ার পর দলটির আর্থিক ভিত আরও মজবুত হয়েছিল। আল-নাসর সমর্থকদের আশা, দ্রুত সমাধান এলে রোনালদোর নেতৃত্বাধীন দলটি আবার দলবদলের বাজারে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।