খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫
বিশ্ব ফুটবলে নতুন মাত্রা যোগ করতে ফিফা ঘোষণা করেছে এক সম্পূর্ণ নতুন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা—‘ফিফা সিরিজ ২০২৬’। আগামী বছরের মার্চ ও এপ্রিলের আন্তর্জাতিক বিরতিতে অনুষ্ঠিত হবে এই টুর্নামেন্টের প্রথম আসর। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এতে পুরুষ ও নারী—উভয় জাতীয় দলই অংশ নেবে, যা বৈশ্বিক ফুটবল কাঠামোর বিস্তারে এক বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ফিফা জানায়, এই নতুন টুর্নামেন্টের মূল উদ্দেশ্য হলো তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত ও দুর্বল ফুটবলখেলুড়ে দেশগুলোর উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা। তাদের জন্য নিয়মিতভাবে শক্তিশালী বা ভিন্নধারার দলের বিপক্ষে খেলার সুযোগ খুবই সীমিত। ফলে মানোন্নয়ন ব্যাহত হয়, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বাড়ে না। ফিফা সিরিজ সেই ঘাটতিই পূরণ করবে—যেখানে দলগুলো প্রীতি ম্যাচ খেললেও তা হবে প্রতিযোগিতামূলক আবহে, এবং আন্তর্জাতিক সূচিতে অতিরিক্ত চাপ না বাড়িয়েই বাড়বে ম্যাচ অভিজ্ঞতা।
নারী দলের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে ব্রাজিল, থাইল্যান্ড ও আইভরি কোস্টে। এগুলো তিনটি মহাদেশের তিন ভিন্ন পরিবেশ, যা নারী ফুটবলের বিস্তারে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। অন্যদিকে পুরুষদের ম্যাচ আয়োজন করা হবে আরও বেশি দেশে—অস্ট্রেলিয়া, আজারবাইজান, ইন্দোনেশিয়া, কাজাখস্তান, মরিশাস, পুয়ের্তো রিকো, রুয়ান্ডা ও উজবেকিস্তানে।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো নতুন এই টুর্নামেন্টকে বলেন ‘‘ফুটবলের বৈচিত্র্য বৃদ্ধির চলমান যাত্রার পরবর্তী ধাপ’’। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক ফুটবলের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে বেশি সংখ্যক দেশের অংশগ্রহণ ও প্রতিযোগিতার ওপর। তিনি বলেন,
‘‘২০২৬ সালের আয়োজনটি শুধুই একটি টুর্নামেন্ট নয়; এটি খেলোয়াড়, কোচ, ভক্ত এবং স্থানীয় সম্প্রদায়কে নতুনভাবে বিশ্ব ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত করবে।’’
ফিফা আরও জানায়, এই প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন মহাদেশীয় সংস্থার দল একে অপরের মুখোমুখি হবে, যা সাধারণত অফিসিয়াল আন্তর্জাতিক ম্যাচে দেখা যায় না। ফলে ফুটবলের বিস্তৃতি ও অভিজ্ঞতার বৈচিত্র্য বাড়বে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ম্যাচ সূচিতে অতিরিক্ত চাপ না দিয়েই বেশি ম্যাচ আয়োজন সম্ভব হবে।
২০২৪ সালের মার্চে এই টুর্নামেন্টের পাইলট প্রকল্প আয়োজন করা হয়েছিল। ছোট পরিসরে হলেও এটি ব্যাপক সাড়া পায় এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলো ফিফাকে উৎসাহ দেয় প্রকল্পটি বিস্তৃত করার। সেই ইতিবাচক অভিজ্ঞতার ফলেই ২০২৬ সাল থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হচ্ছে ‘ফিফা সিরিজ’।
ফিফা বলছে, নতুন ফরম্যাটে আগের তুলনায় আরও বেশি দল অংশ নেবে, আরও বেশি আয়োজক দেশ যুক্ত হবে, আর সবচেয়ে বড় পরিবর্তন—প্রথমবারের মতো নারী জাতীয় দলগুলোও এই সিরিজে যুক্ত হচ্ছে। ফলে নারী ফুটবলের উন্নয়নেও এটি বড় ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
টুর্নামেন্টের নিয়ম-কানুন, ম্যাচ সংখ্যা, গ্রুপ কাঠামোসহ আরও বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে ২০২৬ সালের শুরুতে। তবে ইতোমধ্যেই এই নতুন প্রতিযোগিতা ফুটবলবিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে—অনেকে বলছেন, এটি আন্তর্জাতিক ফুটবলের মানসমতা ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা রাখবে।