খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই আগস্ট ২০২৬, ৫:৩৭ পিএম
২১ আগস্ট থেকে শুরু হতে যাওয়া প্রিমিয়ার লিগের নতুন মৌসুমকে কেন্দ্র করে বিশ্ব ফুটবলে অনন্য এক ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। এবারই প্রথম কোনো প্রিমিয়ার লিগ মৌসুমের উদ্বোধনী সপ্তাহান্তে একযোগে ৯টি ক্লাব নতুন স্থায়ী প্রধান কোচের অধীনে মাঠে নামতে যাচ্ছে। স্পোর্টস ব্রডকাস্টার বিবিসি-র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিগের ৩৪ বছরের দীর্ঘ ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যক নতুন কোচের আত্মপ্রকাশের রেকর্ড।
লিভারপুল, ম্যানচেস্টার সিটি, চেলসি এবং নিউক্যাসল ইউনাইটেডের মতো হেভিওয়েট দলগুলোতে এই পরিবর্তনের সুবাতাস লেগেছে। লিভারপুলে আর্নে স্লটের বিদায়ের পর দায়িত্ব নিয়েছেন আন্দোনি ইরাওলা। ইত্তিহাদ স্টেডিয়ামে দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের সমাপ্তি টেনে পেপ গার্দিওলা সরে দাঁড়ানোয় ম্যানচেস্টার সিটির প্রধান কোচ হয়েছেন এনজো মারেসকা। লিয়াম রোজেনিওরের বিদায়ের পর চেলসি চুক্তি করেছে জাবি আলোনসোর সাথে। অন্যদিকে, বোর্নমাউথ ইরাওলার জায়গায় মার্কো রোজকে, নটিংহাম ফরেস্ট ভিতর পেরেইরার স্থলাভিষিক্ত করে অলিভার গ্লাসনারকে এবং ক্রিস্টাল প্যালেস পিয়ের সাজকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।
এ ছাড়া আলভারো আরবেলোয়াকে নতুন কোচ বানিয়েছে ফুলহাম এবং ইপসউইচ টাউন দায়িত্ব দিয়েছে গ্যারি ও’নিলকে। নিউক্যাসল ইউনাইটেডও এডি হাউয়ের স্থানে মাটিয়াস ইয়াসলাকে ডাগআউটে আনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করায় এই সংখ্যা ৯-এ পৌঁছেছে। এর আগে ২০১৬-১৭ মৌসুমে ৮টি ক্লাব নতুন কোচ নিয়ে মাঠে নেমেছিল, যখন গার্দিওলা ও আন্তোনিও কন্তে ইংলিশ ফুটবলে পা রাখেন। ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে ৭টি এবং ২০১২-১৩ মৌসুমে ৬টি ক্লাব নতুন কোচ নিয়োগ দিয়েছিল।
নতুন এই কোচদের তালিকা ও তাদের ক্লাবের বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
| প্রিমিয়ার লিগ ক্লাব | নতুন নিযুক্ত প্রধান কোচ | পূর্ববর্তী কোচ |
| লিভারপুল | আন্দোনি ইরাওলা | আর্নে স্লট |
| ম্যানচেস্টার সিটি | এনজো মারেসকা | পেপ গার্দিওলা |
| চেলসি | জাবি আলোনসো | লিয়াম রোজেনিওর |
| বোর্নমাউথ | মার্কো রোজ | আন্দোনি ইরাওলা |
| নটিংহাম ফরেস্ট | অলিভার গ্লাসনার | ভিতর পেরেইরা |
| ক্রিস্টাল প্যালেস | পিয়ের সাজ | অলিভার গ্লাসনার |
| ফুলহাম | আলভারো আরবেলোয়া | মার্কো সিলভা |
| ইপসউইচ টাউন | গ্যারি ও’নিল | কিয়ান ম্যাককেনা |
| নিউক্যাসল ইউনাইটেড | মাটিয়াস ইয়াসলা | এডি হাউ |
নতুন এই রিশাফলের ফলে প্রিমিয়ার লিগে এক যুগের অবসান ঘটল। ১৯৮৫-৮৬ মৌসুমের পর এবারই প্রথম স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন, আর্সেন ওয়েঙ্গার, জোসে মরিনিও, ইয়ুর্গেন ক্লপ কিংবা পেপ গার্দিওলার মতো বিখ্যাত পাঁচ কোচের কেউই ডাগআউটে থাকছেন না। উল্লেখ্য, প্রিমিয়ার লিগের ৩৪টি আসরের মধ্যে ২৬টি শিরোপাই এসেছে এই পাঁচ দিকপালের হাত ধরে।
বর্তমানে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে আর্সেনালের দায়িত্ব নেওয়া মিকেল আরতেতা প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী কোচ, যার দায়িত্বের মেয়াদ এখনও সাত বছর পূর্ণ হয়নি। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে কেবল আতলেতিকো মাদ্রিদের দিয়েগো সিমিওনে (২০১১ থেকে) তাঁর চেয়ে বেশি সময় ধরে দায়িত্বে আছেন।
উদ্বোধনী সপ্তাহেই নতুন কৌশল ও কোচদের মুখোমুখি লড়াই দেখতে পাবেন সমর্থকরা। ফুলহাম বনাম চেলসি, ম্যানচেস্টার সিটি বনাম বোর্নমাউথ এবং নিউক্যাসল বনাম লিভারপুলের মধ্যকার ম্যাচে দুই দলেরই ডাগআউটে থাকবে নতুন মুখ।
তবে কোচ বদলালেই কি সফলতা আসে? পরিসংখ্যান কিন্তু ভিন্ন কথা বলছে। প্রিমিয়ার লিগে একজন কোচের গড় মেয়াদ এখন নেমে এসেছে মাত্র ২০ মাসে। গত মৌসুমে নটিংহাম ফরেস্ট তিনজন এবং চেলসি ও টটেনহাম একাধিক কোচ পরিবর্তন করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি। ১৯৯২ সালে প্রিমিয়ার লিগ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মাত্র ছয়জন কোচ নিজেদের প্রথম মৌসুমেই শিরোপা জয়ের গৌরব অর্জন করতে পেরেছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম ইএসপিএন-এর বিশ্লেষণেও উঠে এসেছে যে, ঘনঘন কোচ পরিবর্তন স্বল্পমেয়াদী সাফল্য আনলেও দীর্ঘমেয়াদে ক্লাবের স্থায়িত্ব নষ্ট করে।
মন্তব্য