খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জাতিসংঘের অর্থনৈতিক সংকট নতুন মাত্রা স্পর্শ করছে, কারণ প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের (৪০০ কোটি ডলার) বিশাল বকেয়া পাওনার বিপরীতে ট্রাম্প প্রশাসন মাত্র ১৬ কোটি ডলার পরিশোধ করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সামান্য অর্থ প্রদানের ফলে সংস্থার আর্থিক ব্যবস্থাপনা আরও চাপের মুখে পড়বে।
বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থ প্রদান মূলত সংস্থার নিয়মিত পরিচালনা বাজেটের জন্য নির্ধারিত। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, এই অর্থ প্রদান নামমাত্র হলেও তা কিছুটা হলেও সংস্থার দৈনন্দিন কার্যক্রমকে সহায়তা করবে।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিয়মিত বাজেটের বকেয়া প্রায় ২.১৯৬ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে চলতি বছরেরই বকেয়া ৭৬.৭ কোটি ডলার। শান্তিরক্ষা মিশনগুলোতেও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১.৮ বিলিয়ন ডলারের বকেয়া রয়েছে। মোট বকেয়া অর্থের প্রায় ৯৫ শতাংশই এককভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছেই পাওনা।
গত মাসে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে উল্লেখ করেছিলেন, সদস্য রাষ্ট্রগুলো যদি দ্রুত বকেয়া পরিশোধ না করে, তবে জুলাই মাসের মধ্যেই সংস্থার নিয়মিত কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে যেতে পারে।
তথ্যগুলো টেবিলে উপস্থাপন করা হলো:
| শ্রেণি | বকেয়া অর্থ (ডলার) | মন্তব্য |
|---|---|---|
| নিয়মিত বাজেট | ২,১৯৬,০০,০০,০০০ | চলতি বছরের ৭৬.৭ কোটি অন্তর্ভুক্ত |
| শান্তিরক্ষা মিশন | ১,৮০০,০০,০০,০০০ | বিভিন্ন মহাদেশে শান্তি কার্যক্রমের জন্য |
| মোট বকেয়া | ৩,৯৯৬,০০,০০,০০০ | প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার |
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে ট্রাম্প জাতিসংঘকে ‘অকার্যকর’ ও ‘ফাঁপা কথার জায়গা’ হিসেবে সমালোচনা করেছেন। ইতিমধ্যে তিনি ৩১টি গুরুত্বপূর্ণ জাতিসংঘ কর্মসূচি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়েছেন, যার মধ্যে গণতন্ত্র তহবিল, মা ও শিশু স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত।
তবে ১৯ ফেব্রুয়ারি, ওয়াশিংটনে নবগঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর উদ্বোধনী বৈঠকে ট্রাম্প কিছুটা ভিন্ন সুরে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা জাতিসংঘকে আর্থিকভাবে সহায়তা করব এবং নিশ্চিত করব সংস্থা টিকে থাকে।” তবে তিনি বকেয়া অর্থ কখন পরিশোধ হবে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের ধীর গতির অর্থ প্রদানের কারণে জাতিসংঘের মূল কার্যক্রমে চাপ বেড়ে যাবে এবং তা বিশ্বব্যাপী শান্তি ও মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।