খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রমজানের প্রথম দিনে রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন বাজারে লেবুর দাম যেন আকাশছোঁয়া। ক্রেতারা হতবিহ্বল হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “লেবুর হালি কত?” কারণ, লেবুর দাম এতটা বৃদ্ধি পেয়েছে যে তা প্রায় ‘স্বর্ণের’ সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। ইফতারে চিনি বা গুড়ের সঙ্গে লেবুর শরবত অনেকেরই প্রিয় পানীয়। প্রথম রোজার আগের কয়েকদিনে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় লেবু হয়ে উঠেছে দামের দিক থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে উচ্চ।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আজ সর্বোচ্চ ২০০ টাকা হালি দরে লেবু বিক্রি হয়েছে। দীর্ঘ ৪২ বছর ধরে এখানে লেবু বিক্রি করছেন ফজল হক। তিনি জানান, বর্তমানে বাজারে লেবু তিনটি ক্যাটাগরিতে বিক্রি হচ্ছে:
| লেবুর ধরন | মান | হালি মূল্য (টাকা) |
|---|---|---|
| বাছাই করা লেবু | ভালো | ১৫০–২০০ |
| মাঝারি মানের লেবু | মাঝারি | ১০০–১২০ |
| ছোট কাগজি লেবু | ছোট | ৬০–৮০ |
কারওয়ান বাজারের একজন বিক্রেতা হারুন মিয়া জানান, লেবু তিনি টাঙ্গাইল ও সিলেট থেকে আনেন। কলম্বো লেবু বিশেষভাবে বেশি পাওয়া যাচ্ছে ধামরাই এলাকা থেকে। তিনি বলেন, “লম্বা লেবুর চেয়ে গোলাকার কলম্বো লেবুর দাম কিছুটা কম, তবে এখন ১০০ টাকা হালি বিক্রি হচ্ছে।”
ঢাকার বাইরের বাজারেও একই অবস্থা। রাজশাহীর সাহেব বাজারে দেখা গেছে, মাত্র কয়েক দিন আগে লেবু হালিতে ২০–২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। আজ তা বেড়ে ৫০–৬০ টাকায় পৌঁছেছে। শরীয়তপুরের বাজারেও এক মাস আগের ২০–৫০ টাকা হালির লেবু আজ দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে।
পাইকারি ও খুচরা বাজারে দাম পার্থক্য উল্লেখযোগ্য। কারওয়ান বাজারে ফজল হক জানান, ১০০ পিস কলম্বো লেবু পাইকারি বাজারে ১০০০–১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর অর্থ, হালি হিসেবে সর্বোচ্চ ৪৮ টাকা। লম্বা লেবু পাইকারি বাজারে ১০০ পিস ১৬০০–১৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা হালি হিসেবে সর্বোচ্চ ৬৮ টাকা। খুচরা দরে এগুলো প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে।
শরীয়তপুরের খুচরা বিক্রেতা মো. সালমান বলেন, “মাসখানেক আগেও ২০–৩০ টাকায় লেবু বিক্রি হতো, এখন ৬০–১০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতারাও কমেছে।” স্থানীয় বাসিন্দা সবুজ তালুকদার অভিযোগ করেন, প্রশাসন পর্যাপ্ত তদারকি করছে না। তিনি বলেন, “যাদের সামর্থ্য নেই, তারা কী করবে? বাজারে নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।”
কারওয়ান বাজারের হারুন মিয়া জানান, এই সময় লেবুর আসল সিজন বর্ষায়। রমজান মাসে চাহিদা ১০ গুণ বৃদ্ধি পায়, কিন্তু বাগানিরা সেই অনুযায়ী সরবরাহ দিতে পারে না। ফলে দামও বেড়ে যায়।
শরীয়তপুরের ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক জান্নাতুল ফেরদাউস বলেন, “ক্রেতাদের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় লেবুর দাম বৃদ্ধি পায়। কেউ অতিরিক্ত মুনাফা করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে জনবল সংকট থাকায় সব জায়গায় অভিযান চালানো সম্ভব হচ্ছে না।”
লেবু প্রেমীদের জন্য একটাই বার্তা: রমজানে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি, তাই সাবধানতার সঙ্গে কেনাকাটা করা প্রয়োজন।
লেবুর দাম ওঠানামার সঙ্গে বাজার সরবরাহ ও চাহিদার তুলনা এক নজরে:
| শহর/বাজার | আগের দাম (টাকা/হালি) | বর্তমান দাম (টাকা/হালি) | বৃদ্ধি (%) |
|---|---|---|---|
| ঢাকা, কারওয়ান বাজার | ২০–৮০ | ৬০–২০০ | 150–150% |
| রাজশাহী, সাহেব বাজার | ২০–২৫ | ৫০–৬০ | 100–140% |
| শরীয়তপুর | ২০–৫০ | ৬০–১০০ | 100–100% |
এই তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ও প্রান্তিক এলাকায় লেবুর দাম প্রায় দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ বেড়েছে।