খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশজুড়ে উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় কমানো, অপচয় রোধ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে দক্ষতা বৃদ্ধির অঙ্গীকার করেছিল। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন—জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মাত্র দেড় বছরের মধ্যে অন্তত ৬৫টি প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে প্রায় ৭৯,৮৩৪ কোটি টাকা অতিরিক্ত হয়েছে।
একনেকের ১৯টি বৈঠকে মোট ৮৭টি চলমান প্রকল্পে পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রতিটি বৈঠকে গড়ে পাঁচটি প্রকল্পের ব্যয় সংশোধন হয়েছে। তবে ব্যয়ের দিক বিবেচনায় দেখা যায়:
| প্রকল্পের ধরণ | প্রকল্প সংখ্যা | ব্যয় কমানো (কোটি টাকা) | ব্যয় বাড়ানো (কোটি টাকা) | অপরিবর্তিত ব্যয় |
|---|---|---|---|---|
| ব্যয় বৃদ্ধি প্রাপ্ত | ৬৫ | – | ৭৯,৮৩৪ | – |
| ব্যয় হ্রাস প্রাপ্ত | ৭ | ৯৫০ | – | – |
| অপরিবর্তিত ব্যয় | ১৫ | – | – | সময়সীমা বৃদ্ধি |
প্রাথমিকভাবে এই ৬৫টি প্রকল্পের মোট অনুমোদিত ব্যয় ছিল দুই লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকা। সংশোধনের পর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন লাখ চার হাজার কোটি টাকায়, অর্থাৎ গড়ে ব্যয় বেড়েছে ৩৫.৬৭ শতাংশ।
গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ: ১,৩০৫ → ১,৫৭১ কোটি
নারী ক্ষমতায়ন তথ্য-প্রযুক্তি কর্মসূচি: ১,৪৯০ → ১,৬৩০ কোটি
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: ১,১৩,০০০ → ১,৩৯,৫৯৩ কোটি (২২.৬৩% বৃদ্ধি)
ঢাকা পানি শোধনাগার (৩য় ধাপ): ৪,৫৯৭ → ১৬,০১৫ কোটি
সাসেক সড়ক সংযোগ-২ (চার লেন): ৭,১৫৫ কোটি
মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দর উন্নয়ন: ৬,৬০৪ কোটি
চট্টগ্রাম পয়ঃনিষ্কাশন প্রকল্প: ১,৪১০ কোটি
রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলার প্রকল্প: ১,৩২৪ কোটি
উপজেলা স্টেডিয়াম (২য় ধাপ): ১,৬৪৯ → ২,৮৫৫ কোটি
মেয়াদের একমাত্র ব্যতিক্রম ঢাকার মেট্রোরেল প্রকল্প, যেখানে ব্যয় ৩৩,৪৭২ কোটি থেকে কমিয়ে ৩২,৭১৮ কোটি করা হয়।
অন্তর্বর্তী সরকার দেড় বছরে ১৩৫টি নতুন প্রকল্প অনুমোদন করেছে, মোট ব্যয় দুই লাখ তিন হাজার কোটি টাকা। নতুন প্রকল্পে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেয়েছে চট্টগ্রাম। ২১টি জেলার জন্য নির্দিষ্ট প্রকল্প নেওয়া হয়নি।
আগের সরকার, ক্ষমতা হারানোর আগে, এডিপি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৭ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেছে, যার ৪০ শতাংশ অপচয় হয়েছে। দেশি-বিদেশি ঋণ বেড়ে ২ লাখ ৭৬,৮৩০ কোটি থেকে ১৮ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের লক্ষ্য ছিল বিনিয়োগ দক্ষতা বৃদ্ধি ও প্রকল্প অনুমোদনে কঠোরতা। কিন্তু প্রকল্প সংশোধনের মাধ্যমে ব্যয় বৃদ্ধি মূল প্রত্যাশার বিপরীত প্রতিফলন ঘটিয়েছে। ৬৫টি প্রকল্পে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি জনগণের অর্থ ব্যবস্থাপনাকে নতুনভাবে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
এখন লক্ষ্য থাকবে, বর্তমান সরকার কীভাবে এই অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা সামাল দেবে এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় সত্যিকারের সংস্কার আনতে পারবে কি না।