যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরান তৎপর প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার ঘটনায় তেহরান দ্রুত পাল্টা জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ইরান দাবি করেছে, তারা ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর পাশাপাশি ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইরানের হাতে থাকা অস্ত্র এবং তাদের ব্যবহার কৌশল বিশ্লেষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সামর্থ্য

ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশলের মূল স্তম্ভ হলো তাদের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র। তেহরানের হাতে মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সবচেয়ে বৃহৎ ও বৈচিত্র্যময় ক্ষেপণাস্ত্র বহর রয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ইরানকে আধুনিক বিমানবাহিনী ছাড়াই দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা মেলে।

ক্ষেপণাস্ত্রের ধরন পাল্লা (কিমি) উদাহরণ লক্ষ্যবস্তু ও ব্যবহারযোগ্যতা
স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ১৫০–৮০০ জলফাগর, কিয়াম-১, শাহাব-১/২ আঞ্চলিক দ্রুত হামলা, একযোগে আঘাত, শত্রুকে অপ্রস্তুত রাখা
মাঝারিপাল্লার ব্যালিস্টিক ১৫০০–২০০০ শাহাব-৩, এমাদ, ঘাদর-১, খোররামশাহর, সেজিল আঞ্চলিক প্রতিশোধ, দূরবর্তী লক্ষ্য যেমন ইসরায়েল, কাতার, সৌদি আরব
দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ২০০০–২৫০০ খেইবার শেকান, হজ কাসেম মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও ইসরায়েল পর্যন্ত আঘাত
ক্রুজ ২৫০০ (সুমার) সুমার, ইয়াআলি, কুদস, হোভেইজেহ, পাভেহ, রা’আদ ভূমি ও জাহাজ লক্ষ্য, আকাশ প্রতিরক্ষা এড়ানো

ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কম উচ্চতায় উড়ে যাওয়ায় ভূপ্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে শনাক্ত করা কঠিন হয়। যখন এগুলো ড্রোন বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে একযোগে ছোড়া হয়, তখন প্রতিপক্ষের আকাশ সুরক্ষা অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়ে।

ড্রোন এবং হাইপারসনিক প্রযুক্তি

image যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা

ইরানের হাতে থাকা ড্রোন ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় ধীরগতি হলেও স্বল্প খরচে একযোগে বহু অস্ত্র উৎক্ষেপণ সম্ভব। ড্রোন হামলার মাধ্যমে বিমানবন্দর, বন্দর ও জ্বালানি স্থাপনাগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা সতর্ক অবস্থায় রাখা যায়। এছাড়া ইরান কিছু হাইপারসনিক প্রযুক্তি প্রদর্শন করেছে, যেমন ফাত্তাহ সিরিজ, যা উচ্চগতিতে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম বলে দাবি করা হয়েছে।

ভূগর্ভস্থ উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও হরমুজ প্রণালি

image 1 যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা

ইরান দীর্ঘমেয়াদী সংঘর্ষে সক্ষমতার জন্য ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ, লুকানো ঘাঁটি ও সুরক্ষিত উৎক্ষেপণকেন্দ্র তৈরি করেছে। এই নেটওয়ার্কের কারণে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সামর্থ্য দ্রুত দুর্বল করা কঠিন হবে।
উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে ইরান নৌপথে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, জলজ মাইন, ড্রোন ও দ্রুত আক্রমণে সক্ষম নৌযান ব্যবহার করে বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজকে হুমকি দেখানো সম্ভব।

ইরানের বার্তা

ইরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যদি তাদের ভূখণ্ডে হামলা করে, তা সীমিত অভিযান নয়, বরং বিস্তৃত যুদ্ধের সূচনা হিসেবে গণ্য হবে। বিপ্লবী গার্ড প্রতিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালানোর সংকেত দিয়েছে। ইরান-সমর্থিত বাহিনীও এই সংঘর্ষে অংশগ্রহণ শুরু করেছে।

মোট কথা, ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশল বহুমাত্রিক: ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ, ড্রোন, ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তারা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক চাপ তৈরি করতে সক্ষম। এই যুদ্ধে ইরান সীমিত আঘাতের পরিবর্তে ধারাবাহিক এবং বহুমাত্রিক প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করছে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।