খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত মামলাগুলোর মধ্যে একটি, ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে আনা ‘১১৫ অভিযোগ’-এর বিচার, এখনও অনিশ্চিত অবস্থায় ঝুলে আছে। তিন বছরের বেশি সময় কেটে গেছে, তবু রায় প্রকাশ হয়নি। ইএসপিএনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বিচার প্রক্রিয়ার বর্তমান অবস্থার বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে অভিযোগের মূল বিষয় হলো আর্থিক অনিয়ম। এর মধ্যে রয়েছে ভুয়া হিসাব দাখিল, তথ্য গোপন করে অর্থ লেনদেন, এবং তদন্তে অসহযোগিতা। এসব অভিযোগ মূলত ক্লাবের আর্থিক নিয়ম এড়ানোর কৌশল হিসেবে ধরা হয়েছে। সিটি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
| অভিযোগের ধরন | বর্ণনা |
|---|---|
| আর্থিক অনিয়ম | আয়-ব্যয় নথি ভুয়া বা অসম্পূর্ণভাবে দাখিল করা |
| তথ্য গোপন | নির্দিষ্ট আর্থিক লেনদেনের তথ্য লুকানো |
| তদন্তে অসহযোগিতা | লিগ কর্তৃপক্ষের জিজ্ঞাসায় সঠিক তথ্য প্রদান না করা |
| সম্ভাব্য অতিরিক্ত অভিযোগ | শোনা যাচ্ছে, সিটি ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্ত করেছে এমন অভিযোগও রয়েছে |
২০১৮ সালের ডিসেম্বরে জার্মান সাময়িকী ডের স্পিগেল ‘ফুটবল লিকস’ নথি প্রকাশ করে মামলা শুরু হয়। ২০২১ সালের মার্চে উচ্চ আদালত সিটির আপত্তি খারিজ করে তদন্তকারীদের নথি দেখার অনুমতি দেয়। শোনা গেছে, ২০২৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর লন্ডনের ইন্টারন্যাশনাল ডিসপিউট রেজল্যুশন সেন্টারে শুনানি শুরু হয় এবং ডিসেম্বরে শেষ হয়।
শুনানি শেষ হওয়ার পর এক বছরের বেশি সময় কেটে গেছে, কিন্তু রায় প্রকাশ হয়নি। এর মূল কারণ হলো মামলাটি অত্যন্ত জটিল। প্রতিটি অভিযোগ আলাদাভাবে প্রমাণ করতে হবে। সিটির বিরুদ্ধে শুধু নিয়মভঙ্গ নয়, তদন্তে বাধা দেওয়া ও বিভ্রান্ত করার অভিযোগও রয়েছে।
বিচারক প্যানেল তিনজনের একটি স্বাধীন টিম, যারা পূর্ণকালীনভাবে কাজ করছেন না। তারা শুধু রায়ই নয়, লিখিত ব্যাখ্যা দেবেন। এই লিখিত সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে আপিলের ভিত্তি হবে।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তি হতে পারে:
বড় অঙ্কের জরিমানা
পয়েন্ট কাটা
শিরোপা হরণ
প্রিমিয়ার লিগ থেকে বহিষ্কার
প্রিমিয়ার লিগ ও সিটির মধ্যে গোপন সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে সিটি আংশিক দোষ স্বীকার করবে এবং শাস্তি গ্রহণ করবে, অন্য ক্লাবগুলো ক্ষতিপূরণের দাবিতে না যাবে।
রায় প্রকাশের পরও আপিলের সম্ভাবনা প্রবল। অর্থাৎ এই মামলা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। প্রিমিয়ার লিগের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
মামলাটির জটিলতা, প্রমাণের ভিড়, এবং গোপনীয়তার কারণে এই প্রক্রিয়াকে বলা হচ্ছে প্রিমিয়ার লিগের “অন্তহীন বিচার”।