খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর প্রধান মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি জানিয়েছেন, ইরানে পারমাণবিক বোমা তৈরির যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি এনবিসি নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো সুশৃঙ্খল বা সমন্বিত কর্মসূচি তাদের নজরে আসেনি। সংস্থার পরিদর্শক ও তদন্তকারীরা এমন কোনো আলামত শনাক্ত করতে পারেননি যা স্পষ্ট করে দেখাবে যে তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরান ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে। এই পরিমাণ ইউরেনিয়াম সাধারণ বেসামরিক জ্বালানি চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি। এত উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম কেবল পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশগুলোর কাছে দেখা যায়। তিনি বলেন, “এই মজুদ কেবল পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকেই ইঙ্গিত দিতে পারে, তবে এর কোনো সরাসরি প্রমাণ নেই।”
গ্রোসি আরও উল্লেখ করেন, ইউরেনিয়ামের এই বিশাল মজুদই তাদের মূল উদ্বেগের কারণ। এখন পর্যন্ত পরিদর্শকরা কোনো যৌক্তিক প্রমাণ পাননি যে ইরান এর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা বা সামরিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করছে। তবে এত পরিমাণ ইউরেনিয়াম তত্ত্বগতভাবে ১০টিরও বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরি করতে যথেষ্ট। যদিও এত ইউরেনিয়াম থাকা সত্ত্বেও, বর্তমানে ইরানের কাছে কোনো কার্যকর অস্ত্র নেই।
তিনি সাংবাদিকদের জানান, এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ন সতর্কবার্তা। কারণ ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ রূপান্তরের সুযোগ রয়েছে এবং দ্রুত অস্ত্র তৈরির প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা যেতে পারে।
নিচে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম ও ইউরেনিয়াম মজুদের সংক্ষিপ্ত তথ্য সংকলন করা হলো—
| বিষয় | তথ্য | মন্তব্য |
|---|---|---|
| ইউরেনিয়ামের বিশুদ্ধতা | ৬০ শতাংশ | বেসামরিক চাহিদার তুলনায় অত্যধিক |
| মজুদ পরিমাণ | প্রায় ২৫ কিলোগ্রাম (প্রচলিত হিসাব) | ১০টিরও বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরির তাত্ত্বিক সক্ষমতা |
| পারমাণবিক অস্ত্র প্রমাণ | নেই | কোনো সুশৃঙ্খল বা পরিকল্পিত কর্মসূচির আলামত পাওয়া যায়নি |
| পরিদর্শক পর্যবেক্ষণ | সক্রিয় | ইরান বোমা তৈরির প্রমাণ নেই |
| আন্তর্জাতিক উদ্বেগ | উচ্চ | বিশাল ইউরেনিয়াম মজুদের উদ্দেশ্য অপ্রকাশ্য |
| অস্ত্র প্রস্তুতির বাস্তবতা | নেই | মজুদ শুধুই তাত্ত্বিক সক্ষমতা দেখায় |
গ্রোসি জোর দিয়ে বলেন, পরিদর্শকরা এমন কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি যে ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরির পরিকল্পনা করছে। তবুও ইউরেনিয়ামের এই বিশাল মজুদের কারণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তিনি বলেন, “এ ধরনের পরিমাণ ইউরেনিয়াম কেবল অস্ত্রধারী দেশগুলোতেই দেখা যায়। এ বিষয়ে আমাদের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।”
আইএইএ-র লক্ষ্য হলো নিশ্চিত করা যে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেহরানের কাছ থেকে যে কোনো দ্রুত অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা তাত্ত্বিকভাবে রয়েছে, তবে তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।