খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার নিজলাঠিমারা এলাকায় একটি নৃশংস নারী নির্যাতনের ঘটনা সামাজিক ও আইনগত স্তর উভয়েই তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। গত রবিবার (১ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয়ভাবে পরকীয়ার অভিযোগ তুলে এক নারীকে ও তার তিন মাসের শিশুসন্তানকে কেন্দ্র করে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। নারী ও এক যুবককে একই রশিতে বেঁধে নির্যাতন করা হয়, আর শিশুটিকে কোল থেকে আলাদা করা হয়। এই ভয়াবহ দৃশ্য মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় সমাজে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। তাছাড়া বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ ঘটনায় পাথরঘাটা আমলি আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. পনির শেখ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা (মিস কেস) রুজু করেছেন। পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোহাম্মদ মুবিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, পাথরঘাটা থানার পুলিশকে ১০ মার্চের মধ্যে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। মামলার প্রাথমিক পর্যায়ে শিশু আইন, ২০১৩ এবং দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অপরাধের উপাদান লক্ষ্য করা গেছে। আদালত ভিডিও ও সংবাদপত্রের কপি সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন।
বুধবার (৪ মার্চ) সকালে নিজলাঠিমারা এলাকায় একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এক ব্যক্তি প্রকাশ্যে ওই নারীকে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেন। মানববন্ধন আয়োজনের সময় পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মোহাম্মদ ছগির আলমের সমর্থন ছিল।
মানববন্ধনে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবু বকর সিদ্দিক আফাং আদালতের স্বতঃপ্রণোদিত মামলার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন। এছাড়া অন্যান্য বক্তারা নারীটির সঙ্গে জমিসংক্রান্ত পুরনো বিরোধ থাকার কথা দাবি করেন।
ভুক্তভোগী নারী সাংবাদিকদের জানান, পুরো ঘটনা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে। তিনি বলেন, “জমিসংক্রান্ত বিরোধকে অজুহাতে আমাকে শিশুসন্তানসহ রশিতে বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে। প্রকাশ্যে এলাকা ছাড়ার হুমকি আমাকে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রেখেছে।”
স্থানীয় সমাজকর্মী গোলাম কিবরিয়া বলেন, “আইনের বাইরে কাউকে এলাকা থেকে উৎখাত করার অধিকার কোনো চেয়ারম্যান বা তার সমর্থকদের নেই। অপরাধ করলে তার বিচার আইনের মাধ্যমে হবে।”
পাথরঘাটা থানার ওসি মংচেনলা জানিয়েছেন, আদালতের আদেশ অনুযায়ী তদন্ত শুরু হয়েছে। ভিডিওতে ঘটনার স্বচ্ছ প্রমাণ থাকায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগী নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
| তারিখ | সময় | ঘটনা |
|---|---|---|
| ১ মার্চ ২০২৬ | রাত ১১:৩০ | নিজলাঠিমারা এলাকায় নারীর ওপর শারীরিক নির্যাতন, শিশুকে আলাদা করা |
| ২ মার্চ ২০২৬ | সকাল | ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল, এলাকায় চাঞ্চল্য |
| ৪ মার্চ ২০২৬ | সকাল | মানববন্ধন ও হুমকির ঘটনা, আদালতের স্বতঃপ্রণোদিত মামলা প্রসঙ্গ |
| ৪–১০ মার্চ ২০২৬ | থানার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ |
এ ঘটনা সামাজিক এবং আইনি উভয় ক্ষেত্রেই সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে। ভিডিও ভাইরাল হওয়া মাত্রই সমাজের বিবেক সচেতন হয় এবং আদালত স্বতঃপ্রণোদিতভাবে পদক্ষেপ নেয়, যা অন্যায় ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।