খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
গত চার দিনে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক স্থাপনা উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে। বিভিন্ন উপসাগরীয় দেশ ও মধ্যপ্রাচ্যে অন্তত সাতটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং কয়েকটি দূতাবাস ও কনস্যুলেট লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। আনুমানিক সামরিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ৯০২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছে।
| স্থান ও ঘাঁটি | ক্ষতির ধরণ | আনুমানিক মূল্য (মিলিয়ন ডলার) | বিস্তারিত বিবরণ |
|---|---|---|---|
| কাতার, আল উদেইদ বিমানঘাঁটি | এএন/এফপিএস-১৩২ প্রারম্ভিক সতর্কতা রাডার | ১,১০০ | ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রাডার ক্ষতিগ্রস্ত |
| কুয়েত, ক্যাম্প আরিফজান | এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ৩টি ধ্বংস | ২৮২ | রোববার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুলবশত হামলা |
| বাহরাইন, পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর | স্যাটেলাইট যোগাযোগ টার্মিনাল ধ্বংস | ২০ | এএন/জিএসসি-৫২বি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত |
| সংযুক্ত আরব আমিরাত, আল-রুওয়াইস | থাড এন্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল রাডার | ৫০০ | স্যাটেলাইট চিত্রে ক্ষয় নির্দেশিত |
| ইরাক, এরবিল ঘাঁটি | বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত | – | স্যাটেলাইট চিত্রে চারটি ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত |
| সংযুক্ত আরব আমিরাত, জেবেল আলি বন্দর | ভবন ক্ষয় | – | মার্কিন নৌবাহিনীর ব্যবহৃত ভবন, ধোঁয়া দেখা গেছে |
| কুয়েত, আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি | ছাদের ধস | – | ইরানি হামলার প্রভাব, ক্ষয় মূল্য নির্ধারণ হয়নি |
ইরান কেবল সামরিক ঘাঁটিই নয়, মার্কিন কূটনৈতিক মিশনকেও লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। রিয়াদে অবস্থিত দূতাবাসে দুটি ড্রোন হামলা এবং সীমিত অগ্নিকাণ্ডের ফলে সামান্য ক্ষতি হয়েছে। কুয়েতে দূতাবাসে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে প্রাঙ্গণে ধোঁয়া দেখা যায়, তবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। দুবাইয়ে কনস্যুলেট জেনারেলের দপ্তরেও সন্দেহভাজন ড্রোন আঘাত হানে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলা উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি ও কৌশলগত স্থিতিশীলতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করেছে। কাতার ও কুয়েতে সবচেয়ে বড় সামরিক সরঞ্জামের ক্ষতি হয়েছে, যা উচ্চমূল্যের প্রযুক্তি ও রাডার ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।
এছাড়া, কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও বিমানঘাঁটিগুলির ওপর আক্রমণ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরবরাহ ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে দুর্বল করেছে। ইরানি হামলার ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি, প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি এবং স্থানীয় সেনা ও কূটনৈতিক কর্মীদের সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।
চলমান সংঘাত উপসাগরীয় অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুনভাবে প্রভাবিত করছে। সামরিক ঘাঁটি, রাডার ও দূতাবাসের ওপর আঘাত উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা নীতি পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব করছে, যা সামগ্রিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
মোট কথা, চারদিনে ইরানের কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক স্থাপনার ওপর প্রায় ১ দশমিক ৯০২ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি করেছে, যা চলমান উত্তেজনার মাত্রা ও প্রতিক্রিয়ার সম্ভাব্য মাত্রাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।