খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক আগ্রাসনের প্রথম ১০০ ঘণ্টায় ওয়াশিংটনের খরচ আকাশছোঁয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে, প্রায় ৩৭০ কোটি মার্কিন ডলার। এটি প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮৯ কোটি ১৪ লাখ ডলার। মূলত বিস্তৃত গোলাবারুদের ব্যবহারের কারণে এই ব্যয় এত বড়।
ওয়াশিংটনভিত্তিক চিন্তক প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’ (CSIS)-এর সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে এই তথ্য উঠে এসেছে। শুক্রবার যুদ্ধের সপ্তম দিনে যুক্তরাষ্ট্র এখনও ইরানের ওপর স্টিলথ বোমারু বিমান ও উন্নত অস্ত্র ব্যবহার চালিয়ে যাচ্ছে।
গবেষক মার্ক কানসিয়ান ও ক্রিস পার্ক জানিয়েছেন, প্রথম ১০০ ঘণ্টার প্রায় ৩৭০ কোটি ডলার ব্যয়ের মধ্যে মাত্র ২০ কোটি ডলার বাজেট বরাদ্দের আওতায় ছিল। বাকী ৩৫০ কোটি ডলার বাজেটের বাইরে ব্যয় হয়েছে। অর্থাৎ পেন্টাগনকে এই অতিরিক্ত খরচ মেটাতে শিগগিরই আরও তহবিলের আবেদন করতে হতে পারে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করবে এবং যুদ্ধবিরোধী বিভিন্ন পক্ষের প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জীবনযাত্রার ব্যয়, মুদ্রাস্ফীতি ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে এই যুদ্ধে সমর্থন আরও কমতে পারে। বিশেষত, ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নির্বাচনী প্রচারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি কোনো বিদেশি যুদ্ধে যুক্ত হবেন না, যা এখন সমর্থকদের মধ্যেও বিভাজন তৈরি করছে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর তাদের অভিযানের তথ্য সীমিতভাবে প্রকাশ করেছে। তাই এই বিশ্লেষণ কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস (CBO)-এর অনুমানকৃত ইউনিট খরচ ও সহায়তার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।
প্রাথমিক গোলাবারুদের ব্যবহার ও ব্যয় (১০০ ঘণ্টা)
| ব্যয় শিরোনাম | পরিমাণ / সংখ্যা | খরচ (মার্কিন ডলার) |
|---|---|---|
| ব্যবহৃত গোলাবারুদ | ২,০০০+ | অন্তত ৩৭০ কোটি (মোট ব্যয়) |
| পুনঃমজুত খরচ | ২,০০০+ | ৩১০ কোটি |
| প্রতিদিন বাজেটের বাইরের ব্যয় | – | ৭৫ কোটি ৮১ লাখ |
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ইরানের ওপর বোমাবর্ষণ নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেতে চলেছে, যার মধ্যে থাকবে আরও ফাইটার স্কোয়াড্রন, রক্ষণাত্মক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ঘনঘন বোমারু হামলা। গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, সাধারণত যুদ্ধের তীব্রতা কিছুটা কমে গেলেও এখানে বাজেটের বাইরে ব্যয় বিপুল হবে।
ইতিমধ্যেই মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, আগ্রাসন শুরুর পর ১,৩৩২ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ১৮১ শিশু। লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে লেবাননে নিহতের সংখ্যা অন্তত ১২৩। এছাড়া ইরান, মার্কিন, ইসরায়েলি এবং উপসাগরীয় আরব দেশে মিলিতভাবে আরও ২৬ জন নিহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণভাবে যুদ্ধের খরচ মেটাতে অতিরিক্ত তহবিলের প্রয়োজন দেখা দেবে। এরকম ব্যয় সামলানো রাজনৈতিক ও পরিচালনাগতভাবে চ্যালেঞ্জিং হবে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নতুন ধরণের চাপ তৈরি করতে পারে।
এই বিশ্লেষণ প্রমাণ করছে, মাত্র ১০০ ঘণ্টার মধ্যেই সামরিক অভিযান কতোটা ব্যয়বহুল এবং মানবিক ও রাজনৈতিক প্রভাব কতটা বিস্তৃত।