খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত এক সপ্তাহ পার হলেও যুদ্ধে সমাধানের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বার্তায় দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি আরব দেশগুলোর কয়েকজন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ আরও কয়েক সপ্তাহ বা মাস পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে পারে।
রুবিও জানান, যুক্তরাষ্ট্র এই মুহূর্তে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ক্ষমতা, অস্ত্রের মজুত এবং অস্ত্র উৎপাদনস্থলগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুদ্ধের লক্ষ্য সরাসরি ইরানি সরকার পরিবর্তন করা নয়। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে ভবিষ্যতে ইরানে নতুন নেতৃত্ব ক্ষমতায় আসুক।
বর্তমানে মার্কিন প্রশাসন ইরানের বর্তমান সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের সংলাপ করছে না। রুবিও বলেন, “যদি এই পর্যায়ে আলোচনায় যাওয়া হয়, তাহলে সামরিক লক্ষ্য অর্জনে তা বাধা সৃষ্টি করতে পারে।”
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও কিছুটা পরিপ্রেক্ষিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতার মাধ্যমে যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা করছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না।”
ট্রাম্প আরও বলেছেন, যদি ইরান আত্মসমর্পণ করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা নতুন গ্রহণযোগ্য ইরানি নেতাদের সঙ্গে কাজ করে দেশটির পুনর্গঠনে সহায়তা করবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে বরং দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সম্ভাবনা স্পষ্ট।
| বিষয় | যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান | ইরানের প্রতিক্রিয়া | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| লক্ষ্য | ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, অস্ত্র মজুত, উৎপাদন কেন্দ্র | প্রতিরক্ষা ও প্রতিশোধ | সরাসরি সরকারের পরিবর্তন নয়, ভবিষ্যতে নেতৃত্ব পরিবর্তনের ইঙ্গিত |
| সংলাপ | নেই | মধ্যস্থতা চেষ্টা করছে কিছু দেশ | আলোচনায় গেলে সামরিক লক্ষ্য অর্জনে বাধা |
| প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্য | নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া কোনো চুক্তি নয় | প্রকাশ্যে কোনো সমঝোতা নেই | যুদ্ধের দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি |
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত কূটনৈতিক চেষ্টার মধ্য দিয়ে দ্রুত সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা কম। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কণ্ঠস্বর যুদ্ধের দীর্ঘায়িত প্রকৃতির ইঙ্গিত বহন করছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে পরিস্থিতির আরও জটিলতা দেখা দিতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে আসবে।