ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সম্প্রতি ঘোষণা করেছে, দেশটি অন্তত ছয় মাস পর্যন্ত তীব্র যুদ্ধ পরিচালনা করার সামর্থ্য রাখে। আইআরজিসি কর্তৃপক্ষের মতে, সীমান্ত রক্ষা ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা সর্বদা প্রস্তুত। এই সক্ষমতা অর্জন সম্ভব হয়েছে উচ্চ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাহিনী, স্থানীয় অস্ত্র উৎপাদন এবং সুশৃঙ্খল লজিস্টিক ব্যবস্থার কারণে।
আইআরজিসির একজন সিনিয়র কমান্ডার বলেন, “আমাদের বাহিনী শুধুমাত্র প্রতিরক্ষামূলক নয়, বরং আক্রমণাত্মক ও দীর্ঘমেয়াদি অপারেশন চালানোর সক্ষমতা রাখে। আমাদের প্রতিটি ইউনিট কৌশলগতভাবে প্রশিক্ষিত এবং সর্বাধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থা দ্বারা সজ্জিত।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে ইরানের স্বনির্ভরতা যুদ্ধকালীন সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যেই এই ঘোষণা এসেছে, যা ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষমতার প্রকাশ। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ সক্ষমতা কেবল প্রতিরক্ষা নয়, আঞ্চলিক প্রভাব বৃদ্ধির কৌশল হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।
নিচের টেবিলে আইআরজিসির সামরিক সক্ষমতার মূল উপাদানগুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| উপাদান | বিবরণ | সক্ষমতা মাত্রা |
|---|---|---|
| স্থল বাহিনী | প্রশিক্ষিত ইউনিট ও ট্যাঙ্ক, গ্রাউন্ড ফোর্স | উচ্চ |
| নৌবাহিনী | স্থানীয় নির্মিত যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন | মাঝারি-উচ্চ |
| বায়ুবাহিনী | ড্রোন, স্থানীয় বিমান ও রাডার প্রযুক্তি | মাঝারি |
| ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি | স্বনির্ভর ক্ষেপণাস্ত্র, মধ্য ও দীর্ঘ দূরত্বের লক্ষ্য | উচ্চ |
| লজিস্টিক ও সাপ্লাই | অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থার সুসংগঠন | উচ্চ |
আইআরজিসি আরও জানিয়েছে যে, এই সামরিক ক্ষমতা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি রক্ষাতেও সহায়ক। তবে পশ্চিমা দেশগুলো এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো ইরানের সামরিক সম্প্রসারণকে সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করছে।
সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ সক্ষমতার ঘোষণার মাধ্যমে ইরান আঞ্চলিক কূটনীতিকেও প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। এ ধরনের শক্তির প্রকাশ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সমীকরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে।



