খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
গাজীপুরের শ্রীপুরে চিকিৎসার ঘাটতির কারণে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগে উত্তাল রয়েছে স্থানীয় সমাজ। ঘটনাটি ঘটেছে মাওনা চৌরাস্তায় অবস্থিত লাইফ কেয়ার হাসপাতাল-এ। বিক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রসূতির মৃতদেহ হাসপাতালের অজুহাতে রেখে চিকিৎসক, নার্সসহ হাসপাতালের কর্মীরা হঠাৎ করে পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় হাসপাতাল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
মৃত প্রসূতি রুমা আক্তার (২৫) শ্রীপুরের উজিলাব গ্রামের মো. মানিক মিয়ার স্ত্রী। রুমার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম হওয়া নবজাতকটি বর্তমানে সুস্থ আছে। অভিযোগ অনুসারে, আজ সোমবার সকাল ১০টার দিকে হাসপাতালের সামনে অ্যাম্বুলেন্সে রুমার মরদেহ রেখে হাসপাতালের কর্মীরা অজ্ঞাত কারণে পালিয়ে যান।
রুমার স্বজনদের বর্ণনা অনুযায়ী, গত রোববার রাত ১০টার দিকে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং অবিলম্বে অস্ত্রোপচার শুরু হয়। অস্ত্রোপচার প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যে সম্পন্ন হলেও, রোগীর অবস্থা সম্পর্কে স্বজনদের কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
মধ্যরাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রুমাকে রাজধানীর অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করার চেষ্টা করলেও স্বজনদের জানানো হয়নি। শেষ পর্যন্ত সোমবার সকালে রুমার মৃতদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালের সামনে ফেলে পালিয়ে যায় হাসপাতালের কর্মীরা।
রুমার বোন কামরুন নাহার বলেন, “আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ ছিল না। হাসপাতাল থেকে কোনো দায়িত্বশীল ব্যাখ্যা পাইনি।” আরেক স্বজন মানজুমা আক্তার অভিযোগ করেন, “চিকিৎসক ছাড়া নার্সদের দ্বারা অস্ত্রোপচার করানোয় রুমার মৃত্যু হয়েছে।”
গাজীপুরের সিভিল সার্জন মামুনুর রশীদ First আলোকে বলেন, “প্রসূতি মৃত্যুর অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। শ্রীপুর উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হাসপাতালে যাবে।”
শ্রীপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাফর আলী জানিয়েছেন, “খবর পেয়ে আমরা হাসপাতালে পৌঁছেছি। রোগীর মৃত্যুর জেরে সেখানে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”
হাসপাতালের মালিক মো. পারভেজ বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো কর্মকর্তা ফোন বা উপস্থিতি দিয়ে বক্তব্য দিতে পারেননি।
| সময় | ঘটনা | বিবরণ |
|---|---|---|
| রোববার রাত ১০টা | অস্ত্রোপচার শুরু | রুমা আক্তারের অস্ত্রোপচার শুরু হয় |
| রোববার রাত ১২টা | নবজাতক জন্ম | নবজাতককে বের করা হয়, কিন্তু রোগীর অবস্থা সম্পর্কে স্বজনদের অবহিত করা হয়নি |
| রোববার রাত ২টা | রোগীর মৃত্যু | রুমা আক্তারের মৃত্যু হয় |
| সোমবার সকাল ১০টা | মরদেহ ফেলে পালানো | অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ রেখে হাসপাতালের কর্মীরা পালিয়ে যায় |
| সোমবার সকাল | ভাঙচুর | স্বজনরা ও স্থানীয়রা হাসপাতালে ভাঙচুর চালায় |
স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্কের বিষয়টি এখনো বিদ্যমান। প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্ত চালাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে।
এই ঘটনা আবারও উদ্ভাসিত করে দেশের স্বাস্থ্যসেবায় দায়িত্বহীনতা ও চিকিৎসার মান নিয়ন্ত্রণের তাগিদ।