খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি কেসি-১৩৫ (KC-135) জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় চারজন ক্রু নিহত হয়েছেন। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে মার্কিন সামরিক সূত্র জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পেছনে শত্রুপক্ষের হামলার কোনো ভূমিকা ছিল না।
সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়, “বিমানে থাকা ছয়জন ক্রু সদস্যের মধ্যে চারজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। বাকি দুইজনকে উদ্ধার করার চেষ্টা চলছে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানার জন্য অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছে।” তারা আরও জানিয়েছে, বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় শত্রুপক্ষ বা নিজেদের বাহিনীর গুলির কোনো অবদান নেই।
দুর্ঘটনা ইরাক-জর্ডান সীমান্তবর্তী তুরাইবিল শহরের কাছে বৃহস্পতিবার ঘটেছে। এই বিমানটি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চলাকালীন জ্বালানি সরবরাহের কাজে নিয়োজিত ছিল। একই সময়ে ওই এলাকায় আরেকটি সামরিক বিমান জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়েছে।
ইরান সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তাদের মিত্র বাহিনী বিমানটি ভূপাতিত করেছে এবং এতে থাকা সব ক্রু নিহত হয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই দাবি নাকচ করেছে এবং বিষয়টি দুর্ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে জানিয়েছে।
এটি মার্কিন সামরিক অভিযানের চার নম্বর বিমান বিধ্বস্ত ঘটনা, যা ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে ঘটেছে। এর আগে চলতি সপ্তাহে কুয়েতে মিত্রবাহিনীর ভুল আঘাতে তিনটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়।
বিস্তারিত তথ্যের জন্য ক্রু সদস্যদের অবস্থা এবং বিমানের ধরণ নিচের টেবিলে উপস্থাপন করা হলো:
| ক্রু সদস্য সংখ্যা | অবস্থা | মন্তব্য |
|---|---|---|
| ৬ | ৪ নিহত, ২ জীবিত | জীবিত দুইজন প্যারাশুটের মাধ্যমে নিরাপদে অবতরণ করেছেন |
| বিমান ধরণ | কেসি-১৩৫ জ্বালানি সরবরাহকারী | ইরান যুদ্ধের সময় ব্যবহৃত |
| দুর্ঘটনার ধরন | বিধ্বস্ত | শত্রুপক্ষের হামলা বা বন্ধুকের ভূমিকা নেই |
| স্থান | তুরাইবিল, ইরাক-জর্ডান সীমান্ত | মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কর্মকাণ্ডের অংশ |
এ দুর্ঘটনার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী আরও সতর্কতার সাথে অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার মধ্যে বিমান ও ক্রু সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মার্কিন সামরিক সূত্র জানাচ্ছে, বিধ্বস্ত বিমানের ছয়জন ক্রুদের মধ্যে বেঁচে যাওয়া দুইজনকে স্থানীয় উদ্ধারদল দ্রুত উদ্ধার করেছে। সেন্টকমের এক কর্মকর্তা বলেন, “এই দুর্ঘটনা আমাদের জন্য বড় ধাক্কা, কিন্তু প্রাথমিকভাবে এটি কোনো শত্রুপক্ষের হামলা নয়। আমরা দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে তদন্ত চালাচ্ছি।”
সাম্প্রতিক এই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও বিমান নিরাপত্তা বিষয়ে নতুন সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
মোটকথা, ইরাকের তুরাইবিল এলাকায় বিধ্বস্ত কেসি-১৩৫ বিমান দুর্ঘটনা মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য একটি গুরুতর ক্ষতি হলেও, তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এটি শত্রুপক্ষের আক্রমণের ফল নয়।