খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
রাশিয়ার তেল আমদানি ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া সমালোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। শনিবার (১৪ মার্চ) তিনি বলেন, পূর্বে ওয়াশিংটন ভারতসহ বিভিন্ন দেশের উপর চাপ প্রয়োগ করতো রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল আমদানি বন্ধ করার জন্য, কিন্তু এখন নিজেই সেই তেল কেনার জন্য হাত পাতছে।
আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, “মাসের পর মাস ভারতকে রাশিয়ার তেল কিনতে না বলেছিল যুক্তরাষ্ট্র। অথচ দু’সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি বদলেছে। এখন হোয়াইট হাউস ভারতসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের কাছে ওই তেল কেনার জন্য ভিক্ষা করছে।”
তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোকেও সমালোচনা করেছেন। তার মতে, ইউরোপ ভেবেছিল ইরানের বিরুদ্ধে এই “অবৈধ যুদ্ধে” সমর্থন দিলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন সমর্থন পাবে, যা দুঃখজনক।
যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যকার রাশিয়া তেল নিয়ে টানাপোড়েনের ইতিহাস নিম্নরূপ:
| তারিখ/সময়কাল | যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ | ভারতের প্রতিক্রিয়া |
|---|---|---|
| ২০২১-২০২৩ (ট্রাম্প প্রশাসন) | রাশিয়ার তেল আমদানি বন্ধের চাপ, ভারতীয় পণ্যে ৫০% শুল্ক আরোপ | ভারত জাতীয় স্বার্থের কারণে নীতি পরিবর্তন করেনি |
| শুল্ক প্রত্যাহার | যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে শুল্ক প্রত্যাহার করে জানিয়েছে | ভারত রাশিয়ার তেল আমদানি কিছুটা কমিয়েছে, কিন্তু নিজস্ব নীতি অনুযায়ী |
| ২০২৬ ফেব্রুয়ারি | হরমুজ প্রণালির তেল প্রবাহ বন্ধের ঘোষণা, তেলের বাজার সংকট | যুক্তরাষ্ট্র বাধ্য হয়ে রাশিয়ার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে |
আরাঘচি বলেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্পের বক্তব্য ছিল, রাশিয়ার তেল কেনার ফলে ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে আর্থিক লাভ করছেন। তাই ভারতকে চাপ দেওয়া হয়েছিল। তবে এখন সেই পরিস্থিতি পুরোপুরি পাল্টেছে।”
ইরানের এই সমালোচনা আন্তর্জাতিকভাবে তেল বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিচারিতা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালির তেল প্রবাহ বন্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশগুলোকে বাধ্য হয়ে রাশিয়ার তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর পরিবর্তে গ্রহণ করতে হয়েছে। আর এই প্রেক্ষাপটে ইরানের সমালোচনা দেশটির স্বার্থ এবং জ্বালানি নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।