খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
ঢাকার খ্যাতনামা চলচ্চিত্র অভিনেত্রী পরীমণি সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তা দিয়ে তিন মাস বয়সী এক শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলবার সকালে দেওয়া এই স্ট্যাটাসে তিনি শিশুর মায়ের মাদকাসক্তি এবং পরিবারের সংকটের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন এবং তৎক্ষণাৎ শিশুর সুরক্ষার জন্য সক্রিয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
পরীমণি তার পোস্টে জানান, শিশুর মা ইয়াবার নেশায় আচ্ছন্ন এবং বাবা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে তিন মাসের শিশুটি তার মায়ের কাছে নিরাপদ নয়। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “এটি তোমার শেষ সুযোগ। যদি পরিস্থিতি না বদলায়, আমি কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হব।”
পরীমণি উল্লেখ করেন, শিশুর মা তাকে সমস্ত যোগাযোগ মাধ্যম থেকে ব্লক করলেও তিনি আশা করছেন যে এই বার্তাটি তার নজরে আসবে। তিনি তার মাকে সমর্থন জানাতে এবং পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
নায়িকা উল্লেখ করেন, শিশুর মা যেন দ্রুত রিহ্যাব বা মাদক নিরাময় কেন্দ্রে যায়, যাতে শিশুটি নিরাপদ ও সুরক্ষিত পরিবেশে বড় হতে পারে। তিনি তার পোস্টে আরও বলেন, তিনি নিজ উদ্যোগে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন, এবং এই সময় সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছেন।
পরীমণির এই পদক্ষেপে নেটিজেনরা প্রশংসা করেছেন। একজন ভক্ত দ্রুত শিশুটিকে নিরাপদ করার জন্য অনুরোধ করলে পরীমণি জানান, তিনি বিষয়টি নিজের হাতে নিয়েছেন এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেবেন। অনেকেই মা হিসেবে তার মমত্ববোধের প্রশংসা করেছেন।
| বিবরণ | বর্তমান অবস্থা | প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ |
|---|---|---|
| শিশুর বয়স | ৩ মাস | নিরাপদ আশ্রয় ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা |
| মায়ের অবস্থা | ইয়াবার নেশায় আসক্ত | রিহ্যাব বা মাদক নিরাময় কেন্দ্রের মাধ্যমে পুনর্বাসন |
| পিতার অবস্থা | কারাগারে, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ | শিশুর অভিভাবকত্ব নিশ্চিত করা |
| ঝুঁকি | শিশুর শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা ঝুঁকিতে | শিশু সুরক্ষা সংস্থা বা অভিভাবক নিযুক্তি |
| পরীমণির পদক্ষেপ | সামাজিক মাধ্যমে সাহায্য আহ্বান | শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও মা-কে পুনর্বাসন সাহায্য করা |
পরীমণি এই বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কাজ চালাচ্ছেন এবং শিশুর মঙ্গলার্থে যে কোনো প্রয়াসে অংশগ্রহণ করছেন। তার এই উদ্যোগ সামাজিক সচেতনতার দিক থেকেও প্রশংসিত হয়েছে। নেটিজেনরা আশা প্রকাশ করেছেন যে শিশুটি দ্রুত নিরাপদ পরিবেশে পৌঁছাবে এবং মায়েরও পুনর্বাসনের মাধ্যমে নতুন জীবন শুরু করার সুযোগ পাবেন।
পরীমণির বার্তাটি শুধুই একটি ব্যক্তিগত আবেগ নয়, এটি এক সমাজ সচেতন পদক্ষেপ। এটি প্রমাণ করে যে জনপ্রিয় ব্যক্তি ব্যক্তিগত প্রভাব ব্যবহার করে শিশু ও নারী সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।