খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 4শে চৈত্র ১৪৩২ | ১৮ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা থাকলেও চট্টগ্রাম বন্দরে একের পর এক জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত হচ্ছে। সম্প্রতি প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দরে পৌঁছেছে মোট ২৩টি তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, আরও চারটি জাহাজ বর্তমানে বাংলাদেশের জলসীমার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই জাহাজগুলো বন্দরে নোঙর করবে এবং খালাস শুরু হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়ার পর, গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে জ্বালানি পরিবহন কার্যত স্থবির হয়ে যায়। এই প্রণালির মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি পরিবহন করা হয়। তবুও, যুদ্ধ পরিস্থিতির তীব্রতা বাড়ার আগেই বেশিরভাগ জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছিল। বন্দর সূত্র জানায়, সিঙ্গাপুর, ভারত, মালয়েশিয়া ও অন্যান্য দেশ থেকে এসব জাহাজ আগমনের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরে ৩ মার্চ থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি — এলএনজি, এলপিজি ও ডিজেল — নিয়ে ২৩টি জাহাজ আসে। এর মধ্যে বেশির ভাগের খালাস শেষ হয়েছে, কয়েকটির খালাস এখনও চলমান।
চলতি মাসে আরও চারটি জাহাজ বন্দরে আসার কথা রয়েছে। এঙ্গোলা, ওমান, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড থেকে আগত এসব জাহাজ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি বহন করছে।
| ক্রমিক | আগমনকারী দেশ | জাহাজে বহিত জ্বালানি | আনুমানিক আগমনের তারিখ |
|---|---|---|---|
| ১ | এঙ্গোলা | এলপিজি | ২৩ মার্চ ২০২৬ |
| ২ | ওমান | এলপিজি | ২৩ মার্চ ২০২৬ |
| ৩ | মালয়েশিয়া | এলএনজি | ২৩ মার্চ ২০২৬ |
| ৪ | থাইল্যান্ড | বেইজ অয়েল | ২৩ মার্চ ২০২৬ |
চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তা বলেন, “বাজারে জ্বালানি চাহিদা মেটাতে আমরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ চালাচ্ছি। যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালিতে ব্যাঘাত সত্ত্বেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত থাকলেও, বহির্বিশ্ব থেকে জ্বালানি সরবরাহে চট্টগ্রাম বন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এভাবে দেশের জ্বালানি সংকট এড়ানো সম্ভব হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় জ্বালানি দ্রুত বিতরণ করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের এই ক্রমবর্ধমান কার্যক্রম দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্ব বহন করছে, যা আগামী দিনে আরও সুসংহত এবং পরিকল্পিত সরবরাহ নিশ্চিত করবে।
এই সংবাদে দেখা যাচ্ছে, চলতি মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে আসা ও আসন্ন জাহাজের সংখ্যা দেশীয় জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।