খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
খবরওয়ালা মফস্বল ডেস্ক: বগুড়া শহরের জিরো পয়েন্ট সাতমাথা সংলগ্ন এলাকায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ-ইনু) এর জেলা কার্যালয় ভেঙে ফেলার পর সেখানে ‘শহিদ আবু সাঈদ জামে মসজিদ’ নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে কার্যালয়টি ভেঙে ফেলা হয় এবং শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেখানে একটি ব্যানার টাঙানো হয়। ব্যানারে লেখা রয়েছে, ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গেজেটভুক্ত পরিত্যক্ত অর্পিত সম্পত্তি।’
বগুড়া জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজ এ বিষয়ে বলেন, ‘ওটা সরকারি সম্পত্তি। তাই সব সাইনবোর্ড খুলে অর্পিত সম্পত্তি হিসাবে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, কেউ যদি ওই সম্পত্তি নিজের বলে দাবি করেন, তাহলে তাকে সঠিক কাগজপত্র উপস্থাপন করতে হবে। এরপর যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে, শনিবার বিকেলে ভবনটির ধ্বংসাবশেষের ওপর ‘জুলাই ২০২৪ স্মৃতিকরণ মসজিদের জন্য নির্ধারিত স্থান, বাস্তবায়নে: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা’ লেখা দুটি ব্যানার টাঙানো হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে ডা. আব্দুল্লাহ সানি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে বলেন, জুলাই বিপ্লবের শহিদ আবু সাঈদের নামে এখানে ‘শহিদ আবু সাঈদ জামে মসজিদ’ স্থাপন করা হবে। তিনি জানান, শহিদ আবু সাঈদের পিতা বলেছিলেন, ‘তোমরা আমার সন্তানের জন্য কোনো মূর্তি বানাবে না। তোমরা পারলে আমার ছেলের নামে মসজিদ করবে।’ সেজন্য তারা এখানে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন।
এর আগে শনিবার দুপুরে কিছু ব্যক্তি ওই জায়গাটিকে নিজেদের সম্পত্তি দাবি করে সেখানে ব্যানার টাঙিয়েছিলেন। তাদের ব্যানারে লেখা ছিল, ‘এই সম্পত্তি ১৯৫২ সালে ক্রয় সূত্রে মালিক কোরবান আলী, আব্দুর রহমান, রুস্তম আলী, বাবু কালি গোপাল, তফশীল সম্পত্তির বিবরণ দাগ নং ১৫৮০, মৌজা: সুত্রাপুর, জে.এল নং: ৮২, জমির পরিমাণ: ১৩২৫ শতক, যোগাযোগ: মোঃ উজ্জল: ০১৭১১-৪৭৩৬৮২।’ তাদের পক্ষে মিজানুর রহমান ও মোখলেছুর রহমান দাবি করেন, জাসদ অফিসের সম্পত্তি তার দাদার কেনা সম্পত্তি। তার দাদা ১৯৫২ সালে সেটি কিনেছিলেন। তবে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় জায়গাটি বেহাত হয় এবং পরবর্তীতে জাসদের দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তারা আরও বলেন, রাজনৈতিক দলের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহারের কারণে এতদিন তারা জায়গাটির দখল পাচ্ছিলেন না। এখন সেটি ভেঙে ফেলায় দখল নিতে এসেছেন।
অন্যদিকে, বগুড়া জেলা জাসদ (ইনু) সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, ওই সম্পত্তি হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকজন ব্যক্তির নামে ছিল। ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান বিভক্ত হওয়ার সময় তারা ভারতে চলে যান। পরে সরকার জায়গাটির কর্তৃত্ব গ্রহণ করে। ১৯৭২ সাল থেকে তারা সেখানে অবস্থান করছেন এবং লীজের জন্য আবেদন করেছেন। তবে বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপ মামলা করায় লিজ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়। এক বছর আগে ওই মামলাটি খারিজ হয়ে গেলেও আবেদনটি এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাতে একদল যুবক বগুড়া শহরের সাতমাথায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়, পাশের আওয়ামী লীগের এক নেতার ব্যক্তিগত কার্যালয়, টাউন ক্লাব এবং জেলা জাসদ কার্যালয় ভেঙে ফেলে। একই সময় তারা কবি নজরুল ইসলাম সড়কে জাতীয় পার্টির অফিসও ভেঙে ফেলে।
খবরওয়ালা/টিএ