খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 5শে চৈত্র ১৪৩২ | ১৯ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে এবার ১,৭৭১টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এই জামাতগুলোকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত ও বহুস্তরের প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেন।
কমিশনার জানান, ঢাকা মহানগরীতে মোট ১২১টি ঈদগাহ ও ১,৫৯৯টি মসজিদে জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এর বাইরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আগারগাঁওয়ের পুরোনো বাণিজ্য মেলা মাঠেও একটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ঈদের আগের দিন রাজধানীতে তিনটি সাধারণ জামাত এবং শিয়া সম্প্রদায়ের আটটি জামাত আয়োজন করা হয়েছে, যা সৌদি আরবের প্রথার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করা হয়েছে।
জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রায় ৩৫,০০০ মুসল্লি অংশগ্রহণ করতে পারবেন। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে, যার প্রথমটি সকাল ৭টায় শুরু হবে। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে প্রধান জামাতটি সকাল ৯টায় বায়তুল মোকাররম মসজিদে স্থানান্তর করা হবে।
ডিএমপি জানিয়েছে, জাতীয় ঈদগাহ, বায়তুল মোকাররমসহ সব জামাতস্থলে বহুস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রবেশ পথে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি কার্যক্রম হবে। পুরো ময়দান ও আশপাশের এলাকা সিসিটিভির আওতায় থাকবে এবং নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হবে।
জাতীয় ঈদগাহে প্রবেশের প্রধান তিনটি পয়েন্ট—মৎস্য ভবন, প্রেসক্লাব ও শিক্ষা ভবন এলাকায় রোড ব্যারিকেড বসানো হবে। এছাড়া, ঈদগাহ ময়দানের চারপাশে পুলিশের টহল জোরদার করা হবে। ভিআইপিদের উপস্থিতির কারণে মূল ফটকে কঠোর তল্লাশির ব্যবস্থা থাকবে। নারীদের জন্য পৃথক প্রবেশপথ ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
ডিএমপি আরও জানিয়েছে, ডগ স্কোয়াড, স্পেশাল ব্রাঞ্চের সুইপিং টিম, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল এবং সাদাপোশাকে গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ওয়াচ টাওয়ার থেকে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা হবে।
নিচের টেবিলে রাজধানীর প্রধান ঈদগাহ ও মসজিদে নিরাপত্তার মূল ব্যবস্থাগুলো সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| ঈদ জামাত কেন্দ্র | মুসল্লি সংখ্যা | নিরাপত্তা ব্যবস্থা | বিশেষ ব্যবস্থা |
|---|---|---|---|
| জাতীয় ঈদগাহ | ৩৫,০০০ | আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেক্টর, CCTV | ডগ স্কোয়াড, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, ভিআইপি তল্লাশি |
| বায়তুল মোকাররম | অজানা | CCTV, টহল, রোড ব্যারিকেড | নারীদের পৃথক প্রবেশপথ, জরুরি চিকিৎসা দল |
| অন্যান্য মসজিদ | পরিবর্তনশীল | স্থানীয় ক্রাইম বিভাগ তত্ত্বাবধান | ফায়ার সার্ভিস ও মেডিকেল টিম প্রস্তুত |
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায়, জাতীয় ঈদগাহকেন্দ্রিক কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ডাইভারশন থাকবে। যেমন: জিরো পয়েন্ট ক্রসিং, হাইকোর্ট ক্রসিং, প্রেসক্লাব লিংক রোড, মৎস্য ভবন ক্রসিং ইত্যাদি। মুসল্লিদের গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য গণপূর্ত ভবনের আঙিনা, আইইবির অভ্যন্তর, দোয়েল চত্বরের আশপাশ, মৎস্য ভবন থেকে শাহবাগ পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশ ইত্যাদি এলাকায় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মুসল্লিদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন, নিরাপত্তার স্বার্থে তল্লাশিকাজে সহযোগিতা করবেন, কোনো ধরনের ব্যাগ, ধারালো বা দাহ্য পদার্থ সাথে আনবেন না। ঈদ জামাত শেষে তাড়াহুড়ো না করে সুশৃঙ্খলভাবে বের হবেন এবং সন্দেহজনক কিছু দেখলে স্থানীয় পুলিশ সদস্য বা কন্ট্রোলরুমে যোগাযোগ করবেন।
ডিএমপি জানিয়েছে, দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে নিরাপদে ঈদ উদ্যাপনের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।