খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী এখন নতুন নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের মুখে। ইরান সেখানে নৌ মাইন বসিয়ে রেখেছে, যা বিশ্ব বাণিজ্য ও তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। সিবিএস নিউজ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভলুশনারি গার্ড কোর (IRGC) অন্তত একটি ডজন আধুনিক নৌ মাইন স্থাপন করেছে। এই মাইনগুলো—মাহাম-৩ ও মাহাম-৭—সেন্সর প্রযুক্তি সমৃদ্ধ, জাহাজ শনাক্ত করতে সক্ষম এবং নিকটে আসলেই বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, এই মাইন বসানো হয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই দিনের আলটিমেটামের শেষ হওয়ার আগে, অর্থাৎ ২৩ মার্চ। তবে সঠিক সংখ্যা এখনও নিশ্চিত নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংখ্যা কম হলেও প্রভাব অত্যন্ত গুরুতর হতে পারে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ কাঁচা তেল পরিবহন হয়, তাই কিছু মাইনও এই পথে চলাচলে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মাইনগুলো এলোমেলোভাবে নয়, নির্দিষ্ট কৌশল অনুযায়ী বসানো হয়েছে। এর অর্থ, ইরান চাইলে নির্দিষ্ট জাহাজকে চলতে দিতে পারে, আবার চাইলে পথ পুরোপুরি বন্ধও করতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, এই মাইনগুলো ভূখণ্ডের নিকটে নয়, বরং দুবাইয়ের তীরবর্তী অঞ্চলে বসানো হয়েছে।
নৌ ইতিহাসবিদ জন বাল্কলি বলেন, “বিশ্বের তেলের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা মানে সরাসরি যুদ্ধের প্রয়োজন ছাড়া আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করা।”
এদিকে, এখনও কোনো জাহাজ মাইনে আঘাত পেয়েছে এমন খবর পাওয়া যায়নি। তবে ইরানের ড্রোন হামলার কারণে অনেক জাহাজ ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালীতে চলাচল কমিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স প্রণালী নিরাপদ রাখতে মনোযোগী, এবং জাপানও প্রয়োজনে সহায়তা করতে প্রস্তুত। অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন জেনারেল জ্যাক কীন বলেছেন, “আমরা এমন একটি সরকারের সঙ্গে কাজ করছি, যারা অতীতে বারবার প্রতারণা করেছে। তাই অত্যন্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন।”
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| বসানো মাইনের সংখ্যা | আনুমানিক ১২ |
| মাইন প্রকার | মাহাম-৩, মাহাম-৭ (সেন্সর ও বিস্ফোরণ সক্ষম) |
| লক্ষ্য অঞ্চল | দুবাই তীরবর্তী পানি |
| তেলের বৈশ্বিক প্রবাহ | প্রায় ২০% হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায় |
| জাহাজের চলাচল | কমে গেছে, কোনো আঘাত নেই |
| প্রতিক্রিয়া | যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জাপান নজরদারি |
বর্তমানে হরমুজ প্রণালী খোলা থাকলেও এটি আগের মতো নিরাপদ নয়। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, যে কোনো সময় এই পরিস্থিতি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা সৃষ্টি করতে পারে। সামুদ্রিক মাইন ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালী এখন এক নিয়ন্ত্রিত ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ হিসেবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।